যুক্তরাষ্ট্রে একবার কোনো ব্যক্তি কারাগারে গেলে তার নাগরিকত্বের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। সম্প্রতি দেশটির প্রসিকিউটররা প্রাকৃতিকীকৃত নাগরিকদের বিরুদ্ধে নতুন করে খতিয়ে দেখার উদ্যোগ নিয়েছেন — তাঁরা আদালতের রায়ের মাধ্যমে আইন লঙ্ঘন করেছেন কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে।
দেশটির ফেডারেল আদালতে দণ্ডপ্রাপ্ত প্রাকৃতিকীকৃত নাগরিকদের জন্য এটি একটি বাড়তি ঝুঁকি হিসেবে দেখা দিয়েছে। কারণ, ফেডারেল অপরাধে সাজা হলে নাগরিকত্ব হারানোর আশঙ্কা থাকে। আইনজ্ঞরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আইনে কিছু নির্দিষ্ট অপরাধের জন্য নাগরিকত্ব বাতিলের বিধান রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে জালিয়াতি, মিথ্যা তথ্য দেওয়া কিংবা গুরুতর অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্তি।
সম্প্রতি একাধিক মামলায় প্রসিকিউশন দল প্রাকৃতিকীকৃত নাগরিকদের বিরুদ্ধে এই আইন প্রয়োগের চেষ্টা করছে। এর ফলে যারা দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে বসবাস করছেন এবং নাগরিকত্ব পেয়েছেন, তাঁদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়েছে। বিশেষ করে যাঁরা কোনো অপরাধে জড়িত হয়ে দণ্ডিত হয়েছেন, তাঁদের নাগরিকত্ব হারানোর সম্ভাবনা নিয়ে আইনি লড়াইয়ে নামতে হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই উদ্যোগের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতির কঠোর প্রয়োগের ধারা রয়েছে। প্রশাসন বলছে, যারা আইন ভঙ্গ করেছে, তাদের নাগরিকত্বের সুবিধা দেওয়া যাবে না। তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, এ ধরনের পদক্ষেপে অনেক পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী মানুষদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হবে।
এখন পর্যন্ত কতজন প্রাকৃতিকীকৃত নাগরিক এই ঝুঁকির মুখে পড়েছেন, তার সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তবে আইনজীবীরা বলছেন, যাঁদের বিরুদ্ধে ফেডারেল অপরাধে দণ্ড হয়েছে, তাঁদের সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। এছাড়া, যাঁরা নাগরিকত্বের আবেদন করেছেন বা নবীনাগরিক, তাঁদেরও এই ঝুঁকি সম্পর্কে জানা প্রয়োজন।




