আফ্রিকার গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গোর গভীর চিরহরিৎ বনাঞ্চলে এক নতুন প্রজাতির বানরের আবিষ্কার করেছেন বিজ্ঞানীরা। লোমামি ন্যাশনাল পার্কের সুউচ্চ গাছের মগডালে এদের আবাসস্থল। গবেষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় দেড় দশক আগে প্রথমবারের মতো বন্য প্রাণী সংরক্ষণবাদীদের নজরে আসে এই অদ্ভুত চেহারার প্রাণীটি। তবে সেবার ক্যামেরায় শুধুমাত্র একটি অস্পষ্ট ছবিই ধরা পড়েছিল। ২০১৮ সালে পুনরায় প্রাণীটি চোখে পড়লে নড়েচড়ে বসেন গবেষকেরা। ফ্লোরিডা আটলান্টিক ইউনিভার্সিটির পিএইচডি শিক্ষার্থী জুনিয়র আম্বোকোর নেতৃত্বে গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গো, যুক্তরাষ্ট্র ও জার্মানির এক আন্তর্জাতিক গবেষকদল এই লাজুক বানরের খোঁজে মাঠে নামেন। দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর অডিও রেকর্ডিং, আলোকচিত্র এবং ডিএনএ বিশ্লেষণের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যায় যে এটি বানরের একটি সম্পূর্ণ নতুন প্রজাতি। এই গবেষণার ফলাফল পিএলওএস ওয়ান নামের বিজ্ঞান সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে।

গবেষক জুনিয়র আম্বোকো জানান, বানরগুলো অত্যন্ত লাজুক স্বভাবের এবং সাধারণত গাছের অনেক উঁচুতে লুকিয়ে থাকতে পছন্দ করে। তিনি স্মৃতিচারণ করে আরও বলেন, তাদের আবাসস্থলের আশপাশের ৫২টি গ্রামের মানুষের সঙ্গে কথা বলা হয়েছিল, কিন্তু মাত্র আটটি গ্রামের বাসিন্দা কখনো এই প্রাণী দেখেছেন বলে জানিয়েছেন। অধ্যাপক কেট ডেটউইলারের মতে, কলোবাস বানরের বুড়ো আঙুল থাকে না। নিরামিষভোজী এসব প্রাণী বনের একদম উঁচু স্তরে বাস করে এবং বীজ ছড়ানো ও উদ্ভিদের অঙ্কুরোদগমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিজ্ঞানীদের ধারণা, বানরগুলোর উজ্জ্বল ঠোঁট ও মুখের দাগ মূলত দলের সদস্যদের চেনা বা সঙ্গী আকর্ষণের কাজে লাগে।

উল্লেখ্য, বিগত ৭৫ বছরে আফ্রিকায় এটি বানরের পঞ্চম নতুন প্রজাতির সন্ধান। স্থানীয় ভাষায় এই প্রাণী 'লিকুয়েলি' নামে পরিচিত। তবে ভবিষ্যৎ খুব একটা নিরাপদ নয় এই শান্ত ও লাজুক প্রাণীদের। স্থানীয়ভাবে এদের মাংসের জন্য শিকার করা হয়। গবেষকদের আশা, নতুন প্রজাতি হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পাওয়ার পর প্রশাসন এই বিরল প্রাণী রক্ষায় কঠোর পদক্ষেপ নেবে।