পদ্মা নদী থেকে জেলের জালে ধরা পড়া মহাবিপন্ন প্রজাতির দুটি বাগাড় মাছ রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলায় নিলামে বিক্রি হয়েছে। গত বুধবার সন্ধ্যা ও বৃহস্পতিবার সকালে দৌলতদিয়া ঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আন্তর্জাতিক প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ সংঘের তালিকা অনুসারে, বাগাড় একটি মহাবিপন্ন প্রাণী এবং বন্য প্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইন অনুযায়ী এ মাছ ধরা ও বিক্রি আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। আইনের এই বাধা উপেক্ষা করে দৌলতদিয়ায় প্রকাশ্যেই নিলামে তোলা হচ্ছে বাগাড়।
প্রথম বাগাড়টি ধরা পড়ে বুধবার সন্ধ্যায়। বাহির চর দৌলতদিয়ায় স্থানীয় জেলে তারা মণ্ডলের জালে প্রায় ২৬ কেজি ওজনের একটি বাগাড় ধরা পড়ে। স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ী শাহজাহান শেখ নিলামে ১ হাজার ৬০০ টাকা কেজি দরে মোট ৪১ হাজার ৬০০ টাকায় মাছটি কিনে নেন। বৃহস্পতিবার তিনি সিলেটের আমেরিকাপ্রবাসী শফিকুল ইসলামের কাছে কেজিপ্রতি ১০০ টাকা লাভে ৪৪ হাজার ২০০ টাকায় সেটি বিক্রি করেন।
দ্বিতীয় বাগাড়টির ওজন ছিল প্রায় ৩২ কেজি। বৃহস্পতিবার ভোরে রাজবাড়ীর গুদারবাজার থেকে পদ্মা নদীতে বড় মাছ ধরার জাল ফেলে ভাটিতে ভাসতে থাকেন জেলেরা। দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের অদূরে মানিকগঞ্জের হরিরামপুরের জেলে নয়ন হালদার জালে মাছটি ধরা পড়ে। জাল টানার সময় বড় মাছ আটকেছে বুঝতে পেরে তিনি জাল গুটিয়ে নৌকায় তোলেন। সকালে দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে এনে মেপে দেখেন মাছটির ওজন প্রায় ৩২ কেজি। নিলামে তোলা হলে স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ী শাহজাহান শেখ সরাসরি জেলের কাছ থেকে ২ হাজার টাকা কেজি দরে ৬৪ হাজার টাকায় কিনে নেন। সকাল ১০টার দিকে তিনি একই ক্রেতা শফিকুল ইসলামের কাছে কেজিপ্রতি ২০০ টাকা লাভে ৭০ হাজার ৪০০ টাকায় বিক্রি করেন।
শাহজাহান শেখ জানান, বর্ষা মৌসুমে বাগাড় মাছ বেশি ধরা পড়ে। চলতি মাসের ১৫ দিনে দৌলতদিয়া ঘাট এলাকায় অন্তত ২০টি বাগাড় নিলামে বিক্রি হয়েছে। রাজবাড়ী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মাহবুবুল হক জানান, বাগাড় মাছ শিকার ও বিক্রি বন্ধে সরাসরি ব্যবস্থা নেওয়ার মতো বাধ্যবাধকতা মৎস্য বিভাগের নেই। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনে উদ্বুদ্ধকরণ সভা করা যেতে পারে, তবে উপজেলা প্রশাসন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ব্যবস্থা নিতে পারে। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জেনেছেন গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাথী দাস। তিনি বলেন, ইতোপূর্বে জেলে ও ব্যবসায়ীদের এ বিষয়ে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। প্রয়োজনে আবার খোঁজখবর নিয়ে বাগাড় শিকার ও বিক্রি বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।


