প্রতিবছরের মতো এবারও বিশ্ব লিজার্ড দিবস পালিত হচ্ছে। আমাদের চারপাশে অতি পরিচিত টিকটিকিসহ বিভিন্ন ধরনের সরীসৃপ এই দিবসের মূল আলোচ্য বিষয়। প্রাণীবিজ্ঞানের পরিভাষায় লিজার্ড হলো সরীসৃপদের একটি বিশেষ শ্রেণি, যাদের বৈশিষ্ট্য অন্য সরীসৃপের চেয়ে কিছুটা আলাদা। বেশিরভাগ লিজার্ডের চারটি পা, দেহের বাইরে শ্রবণছিদ্র এবং সচল চোখের পাতা থাকলেও কিছু প্রজাতির মধ্যে এর ব্যতিক্রম দেখা যায়।

পৃথিবীতে সাড়ে সাত হাজারেরও বেশি প্রজাতির লিজার্ড রয়েছে। এর মধ্যে ঘরের টিকটিকি, গিরগিটি, তক্ষক, গুইসাপ, ইগুয়ানা, স্কিংক এবং কোমোডো ড্রাগন অন্যতম। গুইসাপের নামে ‘সাপ’ শব্দটি ব্যবহৃত হলেও আদতে এটি সাপ নয়, বরং লিজার্ডের একটি প্রজাতি। জীবিত লিজার্ডদের মধ্যে সবচেয়ে বড় হলো কোমোডো ড্রাগন, যার শরীরে বিষ থাকে। তবে কুমির বা অ্যালিগেটরকে লিজার্ড হিসেবে গণ্য করা হয় না।

টিকটিকি দেখে অনেকের মনে ভয় বা অস্বস্তি তৈরি হয়। কিন্তু কেন এমন হয়? রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালের চিকিৎসা মনোবিজ্ঞানী শারমিন হক জানান, নির্দিষ্ট কোনো কারণ ছাড়াই কারও মনে কোনো প্রাণীর প্রতি ভয় তৈরি হতে পারে, যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে ফোবিয়া বলে। শৈশবের কিছু ঘটনা টিকটিকি ভীতির জন্ম দিতে পারে। যেমন—টিকটিকি কখন দ্রুত চলবে বা থামবে তা অনুমান করা যায় না। হঠাৎ করে দৃষ্টির মধ্যে এসে পড়লে শিশুরা ভয় পেতে পারে। ঘড়ির আড়ালে থাকা টিকটিকি হুট করে পোকা ধরতে এলে তা ভয়ের স্মৃতি হয়ে থাকতে পারে। কারও গায়ে হঠাৎ টিকটিকি পড়লে বা অন্য কারও ভয় দেখলেও শিশুর মধ্যে এ ভীতি তৈরি হতে পারে।

যদি টিকটিকি-ভয় অতিরিক্ত মাত্রায় থাকে, তবে দৈনন্দিন জীবনেও সমস্যা দেখা দিতে পারে। এমনকি কোনো ঘরে টিকটিকি থাকার কারণেই অনেকের ভয় পেতে দেখা যায়। এ অবস্থা গুরুতর হলে মনোবিদের পরামর্শ নেওয়া উচিত বলে মত দেন বিশেষজ্ঞ। ঘরের টিকটিকি সাধারণত মানুষকে কামড়ায় না এবং ক্ষতিকর কোনো বিষও প্রয়োগ করে না। বনে থাকা লিজার্ডদের তুলনায় ঘরের টিকটিকির স্বভাব অনেকটাই আলাদা।