পোলিও রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রতিবছর বিশ্বে পাঁচ লাখের বেশি মানুষ প্রাণ হারাত বা আজীবনের জন্য পঙ্গু হয়ে যেত, যাদের অধিকাংশই শিশু। যুক্তরাষ্ট্রের মতো উন্নত দেশেও প্রতি বছর ৪০ থেকে ৫০ হাজার শিশু এই রোগে আক্রান্ত হতো। তবে ১৯৫০ সালে ডা. জোনাস সাল্কের আবিষ্কৃত টিকা এই ভয়াবহতা থেকে মানবতাকে মুক্তি দেয়। ১৯৫৩ সালে নিজের ও নিজের পরিবারের ওপর সেই টিকা পরীক্ষা করে দেখান তিনি, আর ১৯৫৫ সালে আনুষ্ঠানিক অনুমোদন পাওয়ার পরও পেটেন্ট না নেওয়ায় তিনি সম্ভাব্য সাত বিলিয়ন ডলার ছেড়ে দেন মানবতার কল্যাণে।

পোলিও টিকার সাফল্যের পর ১৯৫৯ সালে ক্যালিফোর্নিয়ার লা জোলায় সাল্ক ইনস্টিটিউট ফর বায়োলজিক্যাল স্টাডিজ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন সাল্ক। স্থপতি হিসেবে বেছে নেওয়া হয় লুই কানকে। মজার বিষয় হলো, প্রায় একই সময়ে লুই কান বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ ভবন ও রচেস্টারের ফার্স্ট ইউনিটারিয়ান চার্চের নকশার কাজও শুরু করেন। একই সময়ে তিনটি বিশাল কর্মযজ্ঞ সামলানো সত্যিই বিস্ময়কর। সাল্ক চেয়েছিলেন এমন একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান, যা হবে বিজ্ঞানীদের জন্য আধ্যাত্মিক আশ্রয়স্থল, যেখানে প্রশান্ত মহাসাগরের নীল জলরাশির পাশে বিজ্ঞান ও মানবিকতা একাকার হয়ে যাবে।

সাল্ক ইনস্টিটিউটের স্থাপত্য লুই কানের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কীর্তি হিসেবে বিবেচিত। বিশাল কংক্রিটের কাঠামো, মাঝখানের খোলা প্রাঙ্গণের সরু জলধারা এবং দিগন্তহীন সমুদ্র-আকাশের দৃশ্য বিজ্ঞান, প্রকৃতি ও নীরবতার এক গভীর সংলাপ তৈরি করে। এই নকশা শুধু একটি স্থাপত্য নয়, বরং ধ্যানমগ্ন এক অভিজ্ঞতার সৃষ্টি করে, যা বিজ্ঞানী ও শিল্পী উভয়কেই বিমুগ্ধ করে।

জোনাস সাল্ক লুই কানকে বলেছিলেন, তিনি পিকাসোর দেখতে আসার যোগ্য একটি স্থান চান। অনেকের মতে, সাল্কের স্ত্রী ফ্রাঁসোয়া জিলো ছিলেন পিকাসোর দীর্ঘদিনের প্রেমিকা, তাই এই মন্তব্যের পেছনে সেই সম্পর্কের প্রভাব থাকতে পারে। তবে লেখকের নিজের কাছে এই ধারণা দুর্বল মনে হয়েছে। সাল্ক ইনস্টিটিউটে ঘুরে লেখক অনুভব করেছেন, এই স্থাপত্যের ভেতরে দাঁড়িয়ে মনে হয় যেন মানুষের মেধা, সৃজনশীলতা ও সময়ের সঙ্গে এক জীবন্ত কথোপকথনের অংশ হয়ে যাচ্ছেন।