আমেরিকার কানসাস সিটিতে ফুটবলের জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে বলে মন্তব্য করেছেন এক বাংলাদেশি ফুটবলপ্রেমী। সম্প্রতি প্রকাশিত এক কলামে তিনি জানান, বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের খেলা সরাসরি মাঠে গিয়ে দেখার স্মৃতি অম্লান হয়ে থাকবে। জুলাই মাসের ৩ তারিখে অনুষ্ঠিত কলম্বিয়া ও ঘানার মধ্যকার রাউন্ড অব ৩২-এর ম্যাচটি উপভোগ করতে তিনি তার বন্ধু ও ভাইয়ের সঙ্গে কানসাস সিটিতে যান। ম্যাচ শুরুর আগের দিনগুলোতে তারা ফিফা ফ্যান ফেস্টিভালে অংশ নেন এবং আরও বেশ কয়েকটি খেলা দেখেন।
লেখক উল্লেখ করেন, ম্যাচের টিকিট পাওয়া একপ্রকার লটারি জেতার মতো ব্যাপার ছিল। দামও ছিল অনেক বেশি। তবে ভাগ্যক্রমে তার ছোট ভাই শাওন লটারি জিতে টিকিট কেনার সুযোগ পায়। এই টিকিটের জন্যই তারা বিশ্বকাপ সরাসরি দেখার স্বপ্ন পূরণ করতে সক্ষম হন। টিকিটের সেই কষ্টসাধ্যতা যেকোনো মধ্যবিত্ত বাংলাদেশির জন্য বেশ চ্যালেঞ্জিং ছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি। লেখকের ভাষ্য, বিশ্বকাপের টিকিট, থাকা ও খাওয়া—সমগ্র ট্যুরটাই মধ্যবিত্তের জন্য ব্যয়বহুল। অনেকে নিজের প্রিয় জিনিস বিক্রি করেও এখানে এসেছেন। ফুটবলের প্রতি এই ভালোবাসাই তাদের এত দূর নিয়ে এসেছে।
ম্যাচটি ১-০ গোলে জেতে কলম্বিয়া। পুরো স্টেডিয়াম ছিল কলম্বিয়ান সমর্থকদের দখলে। ঘানার সমর্থকের চেয়ে কলম্বিয়ানরা ছিল কয়েকগুণ বেশি। চারপাশ শুধু হলুদ-নীল জার্সিতে ভরা। কলম্বিয়ানরা গান, নাচ ও ভুভুজেলা বাজিয়ে উন্মাদনার এক অনন্য পরিবেশ সৃষ্টি করেছিল। প্রথমার্ধের পর বিরতিতে পুরো স্টেডিয়ামে লাইট শোয়ে মনোমুগ্ধকর পরিবেশ তৈরি হয়। লেখকের ভাষায়, এটি একটি মিউজিক কনসার্টের মতো ছিল। স্টেডিয়ামে নানা বয়সী মানুষ ছিলেন। এক বছর বয়সী শিশু থেকে শুরু করে ৮৫ বছর বয়সী বৃদ্ধ দম্পতিও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। কেউ এসেছিলেন ক্রাচে ভর দিয়ে, কেউ হুইলচেয়ারে। ফুটবলের প্রতি তাদের এই ভালোবাসা দেখে লেখক মুগ্ধ হন।
তিনি আরও জানান, ম্যাচ শেষে আমেরিকার স্বাধীনতা দিবসের আতশবাজি আকাশে ভেসে বেড়াচ্ছিল। কলম্বিয়ানরা বাড়ি ফিরছিল তাদের জয়ের গান গেয়ে। "আমি গান গাই সেই জীবনের জন্য, যা আমাকে আরেকটি নতুন ভোর উপহার দেয়; আমি গান গাই সেই মানুষের জন্য, যারা খেলার মাঠে ছুটে যায়; আমি গান গাই আমার দলের জন্য, যা আমাকে আশায় ভরিয়ে তোলে সেই জার্সির জন্য, যা আমার হৃদয়ের গভীরে ছুঁয়ে যায়"—এমন গানের মধ্যে দিয়ে ফুটবলের প্রতি তাদের আবেগ প্রকাশ পায়।
পূর্বে তিনি ইউএসএ-বসনিয়া ম্যাচও দেখেছেন বলে উল্লেখ করেন। সেদিন ঘরোয়া একটি স্পোর্টস রেস্টুরেন্টেও তিনি খেলা দেখেন। সেখানকার পরিবেশও জমজমাট ছিল। পরদিন তিনি 'নো আদার পাব বাই স্পোর্টিং কেসি' নামক একটি পাব পরিদর্শন করেন এবং পর্তুগাল-ক্রোয়েশিয়া ম্যাচ উপভোগ করেন। সেখানে পর্তুগালের জয়ের পর পুরো স্পোর্টস কমপ্লেক্স আনন্দে ফেটে পড়ে। তিনি মন্তব্য করেন, বিশ্বকাপের সেরা ম্যাচগুলোর একটি ছিল এটি। দ্বিতীয়ার্ধে পাল্টাপাল্টি আক্রমণ, পেনাল্টি ও শেষ মুহূর্তের গোল বাতিল হওয়ার মতো নাটকীয়তা ছিল। আর এই ম্যাচ দিয়েই লুকা মদরিচের বিশ্বকাপ অভিযানের সমাপ্তি ঘটে।
ম্যাচের পরদিন লেখক ফিফা ফ্যান ফেস্টিভালে যান যেখানে প্রায় ২৫ হাজার লোক একসঙ্গে খেলা দেখার ব্যবস্থা ছিল। সেখানে তিনি মিসর ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার ম্যাচ উপভোগ করেন। উল্লেখযোগ্য একটি দিক হলো, আমেরিকার ফুটবল সংস্কৃতিতে এখনো সকার ততটা জনপ্রিয় না হলেও বিশ্বকাপ এলেই তা যেন অন্য রকম উন্মাদনা ছড়িয়ে দেয়। সে অভিজ্ঞতা তাকে মনে করিয়ে দেয়, বিশ্বকাপ কেবল একটি খেলা নয়, এটি উৎসব। তিনি জানান, বিশ্বকাপের এই স্মৃতি তিনি সারাজীবন ধরে রাখবেন বলে আশা করছেন।