কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার কাকারা ইউনিয়নের মাইজ কাকারা গ্রামে টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে সৃষ্ট বন্যায় এক শিশু প্রাণ হারিয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সকালে আড়াই বছরের মোহাম্মদ ওয়াকিম নামের ওই শিশুটি বাড়ির ভেতরে থাকা খাট থেকে পানিতে পড়ে যায়। ঘটনাটি ঘটে যখন তার পরিবারের সদস্যরা দুর্যোগ মোকাবেলায় ব্যস্ত ছিলেন। ভোর চারটার দিকে বাড়িতে পানি ঢোকা শুরু করলে পরিবারটি দ্রুত আসবাবপত্র গুছিয়ে খাটের ওপর আশ্রয় নেয়। বেলা সোয়া ১১টার দিকে সবাই খাটের ওপর খাওয়াদাওয়া করেন। সেই সময় কখন ওয়াকিম খাট থেকে পানিতে পড়ে গেছে, তা কেউ টের পাননি। কিছুক্ষণ পর তার মরদেহ ভেসে উঠলে পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি বুঝতে পারেন। ওয়াকিম সোলতান আহমদ ও পারভিন আকতার দম্পতির সন্তান। বিকেলে স্থানীয় কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত তিন দিনের টানা বর্ষণে চকরিয়া উপজেলার কাকারা ও আশপাশের এলাকা প্লাবিত হয়েছে। পাহাড়ি ঢলের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ভোর থেকে বসতঘরে পানি ঢুকতে শুরু করে। সোলতান আহমদের বাড়িতেও একই পরিস্থিতি তৈরি হয়। ওয়াকিমের বাবা সোলতান আহমদ জানান, সকালে খাটের ওপর বসে সবাই ভাত খাচ্ছিলেন। ওয়াকিমকে তার মা ভাত খাওয়ান। এরপর খাটের ওপর সবাই থাকলেও কখন শিশুটি পানিতে পড়ে যায়, তা তারা টের পাননি। যখন তার খোঁজ নেওয়া হয়, তখন তার লাশ পানিতে ভাসতে দেখা যায়।
কাকারা ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা কাউসার জান্নাত কুমকুম জানান, বন্যার পানিতে ডুবে শিশুটির মৃত্যু হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে শোকসন্তপ্ত পরিবারকে সান্ত্বনা দিয়েছেন। অন্যদিকে, পাঁচ দিনের টানা ভারী বর্ষণে চকরিয়া উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এর আগে গতকাল বুধবার দিবাগত রাত তিনটায় বরইতলী ইউনিয়নে পাহাড়ধসে দুই শিশু-কিশোরীর মৃত্যু হয়েছে। উপজেলার বরইতলী, সুরাজপুর-মানিকপুর, কাকারা, হারবাং, কৈয়ারবিল, ডুলাহাজারা, খুটাখালী, ফাঁসিয়াখালী, লক্ষ্যারচর ও চকরিয়া পৌরসভার শতাধিক গ্রাম এখন পানির নিচে। গত দুই দিনে এসব ইউনিয়নের ৫০টির বেশি গ্রাম প্লাবিত হলেও গতকাল রাত তিনটার পর নতুন করে আরও ৫০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।
আজ দুপুরে হারবাং নোয়াপাড়া এলাকায় খালের পাড় ভেঙে লোকালয়ে পানি ঢুকছে। এতে হারবাং ইউনিয়নের অন্তত সাতটি গ্রামের বসতঘরে পানি ঢুকে পড়েছে। বরইতলী ইউনিয়নের গোবিন্দপুর এলাকা পুরোটা পানির নিচে। প্লাবিত এলাকার লোকজন আত্মীয়-স্বজন ও উঁচু স্থানে অবস্থান নিয়েছেন। বন্যা পরিস্থিতি দিন দিন ভয়াবহ আকার ধারণ করায় স্থানীয় প্রশাসন ত্রাণ কার্যক্রম শুরু করেছে।




