ঢাকা-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, বর্তমানে মাদক সেবনের জন্য জেলখানা সবচেয়ে নিরাপদ জায়গায় পরিণত হয়েছে। তাঁর মতে, বাইরের তুলনায় জেলের ভেতরেও মাদক পাওয়া যায়— যদিও সেখানে কিছুটা বেশি খরচ হতে পারে। দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের ইকুরিয়া এলাকায় বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা জেলা পুলিশ আয়োজিত কমিউনিটি পুলিশিং পরিচিতি সভায় তিনি এসব কথা বলেন। মাদক, জুয়া, চাঁদাবাজি ও নারী–শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

নিজের কারাজীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় জানান, জেলের ভেতরে মাদক বিক্রির ঘটনা তিনি নিজ চোখে দেখেছেন। তিনি বলেন, জেলের অভ্যন্তরেও একটি আর্থিক চক্র সক্রিয় রয়েছে। সেখানে কীভাবে এসব কার্যক্রম পরিচালিত হয়, তা তদন্ত করলে অনেক তথ্য বেরিয়ে আসবে। এলাকার বর্তমান পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, ছোটবেলা থেকে দেখা কিছু এলাকায় এখনো ডাকাতির মতো অপরাধের বিস্তার রয়েছে। রাস্তাঘাটের উন্নয়ন হলেও বাঘৈর ও চিতাখোলার মতো জায়গাগুলোতে এখনো অপরাধ চলছে। বাবুবাজার সেতু থেকে কদমতলী মোড় পর্যন্ত যানজট লেগেই থাকে এবং সেখানে বহিরাগতদের আনাগোনা বেশি— যেগুলো মাদক বেচাকেনার কেন্দ্রস্থল।

মাদক বহন ও বিক্রির কৌশল সম্পর্কে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই নারীদের ব্যবহার করা হয়। অনেকে গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করেন, তাই তাঁদের সন্দেহ করা হয় না— এটি একটি পরিকল্পিত কৌশল। প্রকৃত নিয়ন্ত্রক বা ‘ডন’ দূরেই অবস্থান করেন। তিনি আরও বলেন, শুধু গ্রেপ্তার করলেই সমস্যার সমাধান হবে না; এটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের বিষয় এবং সরকারেরও দায়িত্ব রয়েছে। মাদক নিরাময় কেন্দ্র ও হাসপাতাল বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, প্রথমবার মাদকে জড়িয়ে পড়া ব্যক্তিদের জেলে না পাঠিয়ে নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া উচিত। তাদের সুস্থ করে সমাজে ফিরিয়ে আনলে মাদকের বিস্তার কমবে। একইসঙ্গে মাদকের উৎস বন্ধ করা, সরবরাহব্যবস্থা ভেঙে দেওয়া এবং অভিযানের সময় তথ্য ফাঁস না হওয়ার বিষয়ে কঠোর নজরদারি জরুরি।

অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য নিপুণ রায় বলেন, একজন মাদকসেবী তার পরিবারের পাশাপাশি সমাজের জন্যও ধ্বংসের কারণ। নারী নির্যাতন ও সন্ত্রাসসহ সব অপকর্মের বিরুদ্ধে সবাইকে সহযোগিতা করতে হবে। তিনি কমিউনিটি পুলিশিংয়ের মাধ্যমে সমাজের সব শ্রেণির মানুষকে সম্পৃক্ত করে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। রাজনৈতিক নেতাদের ছত্রচ্ছায়ায় কেউ অপরাধে জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। সভায় দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা কমিউনিটি পুলিশিংয়ের সভাপতি শাহীন রহমান, জিনজিরা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোকাররম হোসেন, ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস দক্ষিণ) তরিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কেরানীগঞ্জ সার্কেল) জামিলুল হক ও কমিউনিটি পুলিশিংয়ের সদস্যসচিব সোহেল রানা বক্তব্য দেন।