শনিবার রাজধানীর মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশ বেসরকারি গ্রন্থাগার সংহতি’র প্রথম জাতীয় সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশনে সংগঠনের নতুন নেতৃত্ব নির্বাচিত হয়। মোহাম্মদ শাহনেওয়াজকে সভাপতি এবং মো. জহির উদ্দিনকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে বেছে নেওয়া হয়। তাঁদের নেতৃত্বে তিন বছর মেয়াদি ৩৩ সদস্যের একটি জাতীয় কমিটি গঠন করা হয়। একই সঙ্গে সংগঠনের গঠনতন্ত্রও অনুমোদন লাভ করে। এই কমিটির মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের বেসরকারি পাঠাগারগুলোর মধ্যে একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার পাশাপাশি সরকারি সহযোগিতা আদায় ও যৌথভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
দিনব্যাপী এ আয়োজনের উদ্বোধন ঘটে সকাল ১০টায়। দেশের শতাধিক বেসরকারি পাঠাগারের প্রতিনিধি জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও পায়রা উড়িয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা করেন। সম্মেলনের প্রথম অধিবেশনটি পরিচালিত হয় সংগঠনের আহ্বায়ক মোহাম্মদ শাহনেওয়াজের সভাপতিত্বে এবং সদস্যসচিব মো. জহির উদ্দিনের সঞ্চালনায়। সেখানে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি মফিদুল হক ও জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের পরিচালক আফসানা বেগম বক্তব্য রাখেন।
মফিদুল হক তাঁর বক্তব্যে পাঠাগার প্রতিনিধিদের শুভেচ্ছা জানান। তিনি উল্লেখ করেন, পাঠাগারগুলো এখন ছোট ছোট সামাজিক শক্তির কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠেছে। মানুষের মধ্যে জ্ঞানচর্চা ও পারস্পরিক যোগাযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে এসব পাঠাগার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এদিকে, আফসানা বেগম বলেন, দেশের পাঠাগারগুলোকে শুধু বই পড়ার স্থান হিসেবে না দেখে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। পাঠাগারের মাধ্যমে পাঠাভ্যাস বাড়ানোর পাশাপাশি সমাজে জ্ঞানচর্চা ও সাংস্কৃতিক বিকাশের সুযোগ তৈরি করতে হবে বলেও তিনি মত প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শতবর্ষী যশোর ইনস্টিটিউট পাবলিক লাইব্রেরির সাধারণ সম্পাদক শেখ জুলফিকার আলী, গাইবান্ধা পাবলিক লাইব্রেরির সাধারণ সম্পাদক জিয়াউল হক, পুরান ঢাকার গ্রন্থবিতানের সাধারণ সম্পাদক মো. জহির উদ্দিন, লক্ষ্মীপুর পাবলিক লাইব্রেরি ও টাউন হলের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মাইন উদ্দিন পাঠান, সীমান্ত গ্রন্থাগারের সদস্যসচিব মানজার চৌধুরী এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জের রানীহাটি সাধারণ পাঠাগারের সভাপতি মুজিবুর রহমানসহ বিভিন্ন অঞ্চলের পাঠাগার প্রতিনিধি।
দ্বিতীয় অধিবেশনের শুরুতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পাঠাগারের প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন। তাঁরা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বেসরকারি পাঠাগারগুলো নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও পাঠাভ্যাস গড়ে তোলা ও জ্ঞানচর্চার প্রসারে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তবে সরকারি সহায়তার অভাব, তীব্র অর্থসংকট, পর্যাপ্ত বই ও অবকাঠামোর ঘাটতিসহ নানা কারণে পাঠাগারগুলোর কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এসব সমস্যা সমাধানে বেসরকারি পাঠাগারগুলোর জন্য সরকারি স্বীকৃতি ও সহযোগিতা বাড়ানোর দাবি জানান তাঁরা। প্রতিনিধিদের ভাষ্য অনুযায়ী, দেশের বেসরকারি পাঠাগারগুলোর সমস্যা ও সম্ভাবনাগুলো সামনে আনা এবং পাঠাগারগুলোর মধ্যে সমন্বয় গড়ে তুলতে ‘বাংলাদেশ বেসরকারি গ্রন্থাগার সংহতি’ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সংগঠনের মাধ্যমে দেশের বেসরকারি পাঠাগারগুলোর একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা, সরকারি সহযোগিতা আদায় এবং পাঠাগারগুলোর স্বার্থে সম্মিলিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দেন তাঁরা।
পুরো অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন গেণ্ডারিয়া কিশলয় কচি-কাঁচার মেলার সাধারণ সম্পাদক নুসরাত ইয়াসমিন রুম্পা।




