বর্ষার মৌসুমে ঘরের দেয়ালে নানা সমস্যা লেগেই থাকে। স্যাঁতসেঁতে ভাব, ছত্রাকের আক্রমণ কিংবা নোনা ধরা—এসব এড়াতে এখন আর শুধু পছন্দের রং বেছে নেওয়া যথেষ্ট নয়। বরং, দেয়ালের টেকসই সুরক্ষা নিশ্চিতে অ্যান্টিফাঙ্গাল, ওয়াটার রেজিস্ট্যান্স ও অ্যালকালি প্রতিরোধী প্রযুক্তির পেইন্ট ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। মেঘলা দিনের আবছা আলোয় ঘর উজ্জ্বল রাখতে অফ-হোয়াইট কিংবা হালকা শেডের দিকেও ঝুঁকছেন অনেকে, যেখানে সিল্ক বা এগশেল ফিনিশ বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
ক্রেতাদের স্বাস্থ্যগত নিরাপত্তা ও পরিবেশ সচেতনতা দিন দিন বাড়ায় পেইন্ট নির্মাতা কোম্পানিগুলো নতুন নতুন প্রযুক্তিনির্ভর পণ্য বাজারে আনছে। এসবের মধ্যে রয়েছে দুর্গন্ধযুক্ত ‘লো বা জিরো ভিওসি’ পেইন্ট, যাতে ক্ষতিকর রাসায়নিকের পরিমাণ কম থাকায় ঘরের ভেতরের বায়ুর মান ভালো থাকে। তাপ-প্রতিফলক ‘কুলিং’ প্রযুক্তির রং সূর্যের তাপ প্রতিহত করে ঘরের তাপমাত্রা ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত নামিয়ে আনা সম্ভব। আবার ছোট বাড়ির বাচ্চাদের জন্য নিরাপদ দাগ-প্রতিরোধী রং সহজেই সাবান-পানি দিয়ে পরিষ্কার করা যায়, পাশাপাশি অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল রং দেওয়ালের জীবাণুর বিস্তার রোধে কার্যকর ভূমিকা রাখে।
দামের দিক থেকে দেখলে, বাজেট ও চাহিদাভেদে রঙের বৈচিত্র্য অনেক। সাধারণ ইকোনমি বা ইন্টেরিয়র পেইন্ট লিটার প্রতি ২৫০ থেকে ৪০০ টাকা দামে পাওয়া যায়। একই পরিমাণ মাঝারি মানের প্লাস্টিক বা অ্যাক্রিলিক ইমালশনের জন্য গুনতে হতে পারে ৩৫০ থেকে ৬০০ টাকা। প্রিমিয়াম পর্যায়ের ওয়াশেবল বা সিল্ক ফিনিশের ইন্টেরিয়র পেইন্টের দাম লিটার প্রতি ৫৫০ থেকে ১ হাজার টাকা বা তারও বেশি। বাইরের দিকে দেয়ালের জন্য মাঝারি মানের এক্সটেরিয়র পেইন্ট ৪৫০ থেকে ৭৫০ টাকা এবং আবহাওয়ারোধী বা হিট রিফ্লেকটিভ প্রযুক্তির উন্নত এক্সটেরিয়র পেইন্টের দাম লিটার প্রতি ৭০০ থেকে ১ হাজার টাকা ছাড়াতে পারে।
সীমিত বাজেটের মধ্যে রঙের ব্র্যান্ড, প্রযুক্তি নাকি ফিনিশকে প্রাধান্য দেওয়া উচিত—এমন প্রশ্নের জবাবে রেইনবো পেইন্টসের হেড অব বিজনেস এ এস এম ফয়সাল মত দেন, বাজেট সীমিত হলে প্রথম অগ্রাধিকার পাওয়া উচিত দেয়ালের মূল সমস্যার সমাধান এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিক প্রযুক্তির পেইন্ট নির্বাচন। শুধু চকচকে ফিনিশ বা কম দাম দেখে রং কেনার ফলে দীর্ঘমেয়াদে দীর্ঘতনের খরচ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। এ ক্ষেত্রে প্রথমেই স্যাঁতসেঁতে ভাব বা ফাটল মেরামত করে বিশ্বস্ত ও মাননিয়ন্ত্রিত একটি ব্র্যান্ডের রং বেছে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ। তিনি আরও উদাহরণ দিয়ে জানান, শোবার ঘরে ‘লো-ভিওসি’ রং, রান্নাঘর ও শিশুদের ঘরে পরিষ্কারযোগ্য রং, ছাতা ধরার আশঙ্কাযুক্ত জায়গায় ছত্রাক-প্রতিরোধী এবং বাইরের দেয়ালের জন্য আবহাওয়া-প্রতিরোধী রংকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাড়ির সৌন্দর্যের বাইরে স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত নিরাপত্তা এখন মূল বিবেচ্য হয়ে উঠছে। যার ফলশ্রুতিতে শিশু আছে এমন পরিবার, হাসপাতাল, স্কুল ও আধুনিক প্রজন্মের বাড়ির মালিক ও স্থপতিদের কাছে পরিবেশবান্ধব ও প্রযুক্তিনির্ভর রঙের জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে।




