বিশ্ববাজারে কোকোয়ার দাম কমতে শুরু করলেও চকলেটের দাম এখনো আগের মতোই উচ্চ পর্যায়ে রয়ে গেছে। এর পেছনে বেশ কয়েকটি কারণ কাজ করছে বলে জানিয়েছেন বিশ্লেষকরা। চরম আবহাওয়া পরিস্থিতি, বিভিন্ন দেশে আরোপিত শুল্ক এবং ইরান যুদ্ধের প্রভাবের মতো ঘটনা চকলেটের উৎপাদন ও সরবরাহ খরচ বাড়িয়ে দিয়েছে। ফলে কোকোয়ার দাম কমলেও তা চকলেটের মূল্যহ্রাসে তেমন কোনো প্রভাব ফেলতে পারছে না।

চকলেট নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো এখন নতুন কৌশল গ্রহণ করছে। তারা গ্রাহকদের কাছে প্রিমিয়াম পণ্য ও সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রেন্ডিং পদ্ধতি ব্যবহার করে আকর্ষণ ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে। প্রতিষ্ঠানগুলোর লক্ষ্য হলো দাম বাড়লেও গ্রাহকের আগ্রহ ধরে রাখা। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে বিশেষ স্বাদ, সীমিত সংস্করণের পণ্য এবং সামাজিক মাধ্যমের প্রচারণার মাধ্যমে ব্র্যান্ডের প্রতি আনুগত্য বাড়ানো হচ্ছে।

চকলেট শিল্পের ওপর ইরান যুদ্ধের প্রভাব বেশ লক্ষণীয়। যুদ্ধের কারণে জ্বালানি ও পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় সরবরাহ ব্যবস্থায় ধাক্কা লেগেছে। অন্যদিকে, চরম আবহাওয়ায় কোকোয়া উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় গত কয়েক মাসে দাম চড়া ছিল। এখন কোকোয়ার দাম কমলেও উৎপাদন খরচের অন্যান্য অংশ কমেনি। শুল্ক বাড়তি থাকায় আমদানি ব্যয়ও স্থির রয়েছে।

বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, চকলেটের দাম শিগগিরই কমার সম্ভাবনা নেই। তবে কোম্পানিগুলো নতুন পণ্য উদ্ভাবন ও বিজ্ঞাপনে জোর দিয়ে বাজারের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে চায়। ভোক্তারা যদি প্রিমিয়াম পণ্যের প্রতি আগ্রহী হন, তাহলে বিক্রি বাড়তে পারে বলে তারা আশাবাদী। তবে সাধারণ ক্রেতাদের জন্য দাম এখনো অনেক বেশি থাকায় চকলেটের চাহিদা কিছুটা কমেছে বলে জানা গেছে।

চকলেট কোম্পানিগুলোর এই কৌশল কতটা সফল হবে, তা সময়ই বলে দেবে। বর্তমানে তারা গ্রাহকদের মনোযোগ ফিরিয়ে আনতে নানা প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।