জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) অধীনে নতুন আয়কর রিটার্ন জমার মৌসুম শুরু হয়েছে। আগের বছরের ধারাবাহিকতায় এবারও সিংহভাগ করদাতার জন্য বাধ্যতামূলক হয়েছে অনলাইন পদ্ধতি। কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট জানিয়েছে, কিছু সীমিত ব্যতিক্রম ছাড়া কর কার্যালয়ে গিয়ে আর রিটার্ন জমা দেওয়া যাবে না। বর্তমান প্রেক্ষিতে সোয়া এক কোটিরও বেশি কর শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) নিবন্ধিত আছে। পূর্ববর্তী মৌসুমে ৪৫ লাখের অধিক টিআইএনধারী ইলেকট্রনিক মাধ্যমে রিটার্ন দাখিল করেছিলেন।
প্রক্রিয়াটি শুরুর প্রথম ধাপ হলো ই-রিটার্ন সিস্টেমে নিবন্ধন করা। এ কাজের জন্য আবশ্যক উপাদানগুলো হচ্ছে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), এনআইডির সাথে সংযুক্ত একটি সক্রিয় মুঠোফোন নম্বর, এবং একটি বৈধ টিআইএন। করদতা এই ঠিকানায় গিয়ে প্রথমে নিবন্ধন সম্পন্ন করবেন। ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে 'I am not registered yet' বোতামে ক্লিক করার পর, নির্ধারিত স্থানে টিআইএন ও মোবাইল নম্বর দিয়ে পূরণ করতে হবে। পরবর্তী সময়ে মুঠোফোনে প্রাপ্ত এককালীন পাসওয়ার্ড (ওটিপি) দিয়ে নির্ধারিত পাসওয়ার্ড তৈরি করে নিবন্ধনের কাজ শেষ হবে।
নিবন্ধন শেষ হওয়া মানে আপনি এনবিআরের অনলাইন রিটার্ন তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেলেন। এরপর থেকে ইচ্ছামতো সময়ে টিআইএন ও নির্ধারিত পাসওয়ার্ড প্রয়োগ করে লগইন করা যাবে। রিটার্ন জমার দিন লগইন করে বার্ষিক আয়, বিনিয়োগ, ব্যয়, সম্পদ ও দায়-দায়িত্ব সম্পর্কিত তথ্যাদি পর্যায়ক্রমে পুরা করলেই জমা দেওয়া সম্পন্ন হবে। পাসওয়ার্ড বিস্মৃত হলে 'Forgot password' সুবিধা ব্যবহার করে নতুন পাসওয়ার্ড নির্মাণ করে নেওয়া যায়।
কর পরিশোধের ক্ষেত্রেও ই-রিটার্ন ব্যবস্থা অত্যন্ত সহজ। করদা ব্যাংক স্থানান্তর, ডেবিট অথবা ক্রেডিট কার্ড, এবং বিকাশ, রকেট, নগদসহ বিভিন্ন মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস ব্যবহার করে ঘরে বসেই তা সম্পাদন করতে পারবেন। যথাযথ তথ্য প্রদানপূর্বক ত্রুটিহীন রিটার্ন প্রস্তুত ও জমা দিলে, সঙ্গে সঙ্গে প্রাপ্তি স্বীকারপত্র এবং আয়কর সনদ সংগ্রহ করা সম্ভব।
কর প্রণোদনার বিষয়ে জানা যায়, চলতি ২০২৬–২০২৭ করবর্ষ থেকে ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের জন্য একটি বিশেষ সুবিধা রয়েছে। জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর মাসের ভেতর যদি কেউ রিটার্ন দাখিল করেন, তাহলে তার প্রদেয় করের ৫ শতাংশ অথবা সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ছাড় মিলবে। এই নির্দিষ্ট সময়ের পরে রিটার্ন জমা পড়লে উক্ত প্রণোদনা আর প্রযোজ্য হবে না। অধিকন্তু, ডিসেম্বর মাস পেরিয়ে গেলে দেরির জন্য অতিরিক্ত কর প্রদেয় হবে।




