খুলনার পাইকগাছা থেকে রোববার দুজনকে আটক করেছে পুলিশ। সাতক্ষীরার তালায় চিকিৎসা দেখানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে এক গৃহবধূকে ভাড়া বাসায় নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে অনুপ কুমার বিশ্বাস (৩৬) ও শিপ্রা বিশ্বাসকে (৩২)। মামলায় নাম উল্লেখ থাকা এস এম রাজু নামের আরেক আসামিকে গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।
মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী ওই নারী (৪০) খুলনার কয়রা উপজেলার স্থায়ী বাসিন্দা। দীর্ঘদিন ধরে তিনি পেটের ব্যথা ও স্ত্রীরোগজনিত বিভিন্ন সমস্যায় ভুগছিলেন। চিকিৎসার উদ্দেশ্যে গত জুলাই মাসের শেষের দিকে তিনি বাবার বাড়িতে আসেন। সেখানে স্থানীয় এক প্রতিবেশীর মাধ্যমে সাতক্ষীরা শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে কর্মরত এস এম রাজু নামের ব্যক্তির সঙ্গে তাঁর পরিচয় ঘটে। রাজু তাঁকে উন্নত চিকিৎসা ও ভালো চিকিৎসক দেখানোর আশ্বাস দেন।
১৩ আগস্ট দুপুরে চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হন ওই নারী। বিকেল চারটার দিকে তিনি তালা ইজিবাইকস্ট্যান্ডে পৌঁছে রাজুকে ফোন করেন। কিছুক্ষণ পর সেখানে এসে রাজু জানান, সেদিন আর হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসক দেখানো সম্ভব হবে না। পরদিন চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে তিনি তাঁকে একটি ভাড়া বাসায় নিয়ে যাওয়ার প্রস্তাব দেন। রাজুর কথায় রাজি হয়ে ওই নারী তাঁর সঙ্গে সেই বাসায় যান।
বাসায় থাকা শিপ্রা বিশ্বাস নামের ওই নারী তাঁকে পানি চান এবং বিস্কুট ও পুরির সঙ্গে খাবার পরিবেশন করেন। এসব খাওয়ার পরপরই তিনি গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন হয়ে পড়েন। অভিযোগ অনুযায়ী, এ সময় রাজু ওই কক্ষে প্রবেশ করে তাঁকে ধর্ষণ করেন। দিবাগত রাত সাড়ে তিনটার দিকে আরও একজন অজ্ঞাতনামা পুরুষ কক্ষে ঢোকেন; রাজু তখন কক্ষের বাইরে চলে যান এবং ওই ব্যক্তি তাঁকে ধর্ষণ করেন বলে এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।
ভুক্তভোগীর দাবি, রাত দুইটার দিকে ঘুম ভাঙলে তিনি বুঝতে পারেন যে তিনি নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তাঁর ধারণা, পরিবেশিত খাবারের সঙ্গে কোনো চেতনানাশক মিশিয়ে দেওয়া হয়েছিল। বাসায় থাকা ওই নারীকে বিষয়টি জানালে তিনি চুপ থাকতে বলেন এবং নিজের মুঠোফোনে ধারণ করা তাঁর বিবস্ত্র ছবি ও ভিডিও দেখিয়ে ভয় দেখান। এরপর রাজু আবার কক্ষে এসে তাঁকে ধর্ষণ করেন। পরবর্তীতে অজ্ঞাতনামা ওই পুরুষও একইভাবে নির্যাতন চালান বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।
পরদিন ১৪ আগস্ট সকাল ছয়টার দিকে তিনি ওই বাসা থেকে বের হয়ে আসেন। কান্নাকাটি শুনে পাশের একটি ইউনিটের এক বাসিন্দা দরজা খুলে বের হন। তাঁর মুঠোফোন থেকে মামাতো ভাইকে কল করেন ওই নারী। মামাতো ভাই এলে তিনি ঘটনার বিস্তারিত জানান। পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তীতে তিনি তালা থানায় মামলা দায়ের করেন।
তালা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. সাখাওয়াত হোসেন সোমবার সকালে প্রথম আলোকে জানান, ভুক্তভোগীর ছবি ও ভিডিও ধারণ করে ভয় দেখানোর অভিযোগটিও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে। ওই মুঠোফোন উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। তদন্তে আরও কেউ জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেলে তাঁদেরও আইনের আওতায় আনা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।




