সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলায় জমি লিখে দেওয়ার বিষয়ে বিরোধের জেরে এক প্রবীণ ব্যক্তিকে শ্বাসরোধে হত্যার ঘটনায় তাঁর পুত্রবধূসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃত পুত্রবধূ হত্যার দায় স্বীকার করেছেন বলে জানা গেছে। থানা পুলিশের বরাতে জানা যায়, বৃদ্ধ বাবা মোহাম্মদ আলীর (৭৫) কাছ থেকে জমিজমা নিজেদের নামে লিখে নেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছিলেন তাঁর ছেলে ইসমাইল হোসেন ও পুত্রবধূ হোসনা বেগম। কিন্তু প্রবীণ ব্যক্তি তাতে রাজি না হওয়ায় ক্ষুব্ধ হন তাঁরা। এরই জেরে বাবাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। ছেলে প্রবাস থেকে হত্যার খরচ বাবদ অর্থ পাঠান, আর পুত্রবধূ স্থানীয় খুনি ভাড়া করেন বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন হোসনা।
ঘটনাটি উপজেলার নরসিংপুর ইউনিয়নের সোনাপুর গ্রামে। শনিবার সকালে গ্রামে গুজব ছড়িয়ে পড়ে যে মোহাম্মদ আলী ঘুমের মধ্যে মারা গেছেন। এই গুজব ছড়ানোর পেছনে ছিলেন তাঁর পুত্রবধূ হোসনা নিজেই। স্বাভাবিক মৃত্যু হিসেবে লাশ দাফনের প্রস্তুতি চলছিল। তবে দুপুরে থানায় খবর পৌঁছায় যে মরদেহের গলায় দাগ এবং মুখে রক্তের চিহ্ন রয়েছে। দোয়ারাবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম তালুকদার ঘটনাস্থলে গিয়ে সন্দেহ হলে লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠান।
রাতে থানায় জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে হোসনা বেগম হত্যার কথা স্বীকার করেন এবং তিনিই খুনিদের ভাড়া করেন বলে জানান। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রোববার অভিযান চালিয়ে একই গ্রামের রুহুল আমিন (২২) ও নজরুল ইসলামকে (২০) গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ ঘটনায় মোহাম্মদ আলীর এক নাতনি আছমা বেগম পাঁচজনের বিরুদ্ধে থানায় হত্যা মামলা করেছেন। মামলায় ইসমাইল হোসেন ও জিয়াউর রহমানকেও আসামি করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মোহাম্মদ আলীর একমাত্র ছেলে ইসমাইল সৌদি আরবে থাকেন। বাড়িতে ছিলেন মোহাম্মদ আলী, হোসনা ও তাঁদের ছেলে। ঘটনার আগে থেকেই জমি লিখে না দেওয়ায় ক্ষুব্ধ ছিলেন ইসমাইল-হোসনা। কিছুদিন ধরে মোহাম্মদ আলী আলাদা খাওয়ার ব্যবস্থা করেন, যা নিয়ে আরও বিরক্তি বাড়ে। এরপর হোসনা তাঁর আত্মীয় রুহুলকে ডেকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। রুহুল ইসমাইলের সঙ্গে যোগাযোগ করে পরিকল্পনার কথা জানালে ইসমাইল ৫০ হাজার টাকা পাঠান হত্যার খরচ বাবদ।
পরিকল্পনা অনুযায়ী শুক্রবার রাত ১২টার দিকে রুহুল আমিন, নজরুল ইসলাম ও জিয়াউর রহমান ওই বাড়িতে আসেন। হোসনা বেগম দরজা খুলে দেন। পরে ওই তিনজন হোসনার কক্ষ থেকে একটি মই নিয়ে মোহাম্মদ আলীর ঘরে প্রবেশ করেন। ঘুমন্ত অবস্থায় গামছা পেঁচিয়ে তাঁর গলায় শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। এ সময় হোসনা বাতি জ্বেলে ওপর থেকে আলো দেখিয়ে সহযোগিতা করেন। কাজ শেষে তিনজন চলে গেলে হোসনা ঘুমিয়ে পড়েন। সকালে উঠে তিনি আশপাশের লোকজনকে জানান, শ্বশুর দরজা খুলছেন না। পরে সবাই মিলে দরজা ভেঙে ভেতরে গিয়ে দেখেন মরদেহ পড়ে আছে বিছানায়।
ওসি তরিকুল ইসলাম তালুকদার জানান, গ্রেপ্তার তিনজন হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। পলাতক আসামিদের ধরতে অভিযান চলছে।




