চট্টগ্রাম শহরের ষোলশহর এলাকায় সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালকরা গ্যাস সংকটের প্রতিবাদে শুক্রবার সকালে সড়ক অবরোধ করেছেন। স্থানীয় ফসিল ফিলিং স্টেশনের সামনে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পরও গ্যাস না পাওয়ায় তারা এই পদক্ষেপ নেন বলে জানা গেছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানা যায়, ভোরে অনেক চালক গ্যাসের আশায় স্টেশনের সামনে জড়ো হন, কিন্তু সরবরাহ না থাকায় হতাশ হয়ে তারা রাস্তা অবরুদ্ধ করে ফেলেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে দেয়।
সকাল ১০টার দিকে ঘটনাস্থলে দেখা যায়, সাপ্তাহিক ছুটির কারণে সড়কে যানবাহনের চাপ তুলনামূলকভাবে কম, তবে ফিলিং স্টেশনের সামনে গ্যাস নেওয়ার জন্য যানবাহনের দীর্ঘ সারি লেগে আছে। চালকদের একাংশ জানান, তারা এক দিনেরও বেশি সময় ধরে লাইনে অপেক্ষা করছেন। চালকদের অভিযোগ, ২৪ ঘণ্টা অতিক্রান্ত হলেও ফিলিং স্টেশন থেকে গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না, আবার কখন সরবরাহ স্বাভাবিক হবে সে বিষয়েও কর্তৃপক্ষ কোনো নিশ্চয়তা দিতে পারছে না।
একজন চালক মোহাম্মদ হানিফ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দেড় দিন ধরে গাড়ি নিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। গ্যাসের অভাবে গাড়ি চালানো সম্ভব হচ্ছে না, আর কখন গ্যাস মিলবে তা কেউ বলতে পারছে না। তিনি প্রশ্ন তোলেন, এমন পরিস্থিতিতে দিনের পর দিন বসে থাকলে সংসার কীভাবে চলবে।
ফসিল ফিলিং স্টেশনের এক কর্মকর্তা জানান, গ্যাসের ঘাটতির কারণে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় জ্বালানি দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এ অবস্থার কোনো পরিবর্তন হবে না বলে তিনি মন্তব্য করেন।
এদিকে পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহেদুল ইসলাম বলেন, অবরোধের সময়কাল প্রায় ১৫ থেকে ২০ মিনিট। খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে চালকদের শান্ত করতে সক্ষম হয় এবং তারা সড়ক ছেড়ে চলে যান। তবে এই গ্যাস সংকট কবে নাগাদ সমাধান হবে, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর পক্ষ থেকে এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট ঘোষণা আসেনি।
চট্টগ্রামে সাম্প্রতিক সময়ে গ্যাস সরবরাহে ঘাটতি বাড়ায় সিএনজি চালকরা চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন। শিল্প-কারখানা থেকে শুরু করে যানবাহন পর্যন্ত সব ক্ষেত্রে এর প্রভাব পড়ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।




