চট্টগ্রামের সমুদ্র উপকূলে গত জুলাই মাসে বিপুল পরিমাণ ইলিশ আহরণ করা হয়েছে। জেলা মৎস্য দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ সময়ে উপকূল ও নদী মিলিয়ে মোট ১ হাজার ৫৭২ টন ইলিশ ধরা পড়ে, যা সংখ্যার হিসেবে ৩৪ লাখ ৯৪ হাজার ৩৭৮টি। এই বিপুল আহরণ সত্ত্বেও চট্টগ্রামের বাজারগুলিতে ইলিশের দামে কোনো ভাটা পড়েনি।
উৎপাদনের সিংহভাগই এসেছে সমুদ্র থেকে। মোট আহরিত ইলিশের প্রায় ৮০ শতাংশই সাগরের মাছ। তবে এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য অংশ এসেছে সীতাকুণ্ডের সন্দ্বীপ চ্যানেল থেকে। এই চ্যানেল থেকে একাই ৩ লাখ ৯ হাজার ৪০০টি ইলিশ ধরা পড়েছে, যার ওজন প্রায় ১০৩ মেট্রিক টন। অর্থাৎ জুলাই মাসে চট্টগ্রামে মোট যে ইলিশ ধরা পড়েছে, তার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশের উৎস এই সন্দ্বীপ চ্যানেল।
শুক্রবার নগরের বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, বাজারে এখনো দাম অপরিবর্তিত। ছোট আকারের জাটকার জন্য খুচরা বাজারে ৯০০ টাকা দাম চাওয়া হচ্ছে। ৭০০ থেকে ৮০০ গ্রাম ওজনের একটি ইলিশ কিনতে ক্রেতাদের ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত গুনতে হচ্ছে। এক কেজি ওজনের ইলিশের দাম প্রায় ২ হাজার টাকা, আর দেড় কেজির বেশি ওজনের মাছের দাম কেজিপ্রতি ৩ হাজার টাকার ওপর।
ঘাটে মাছের দাম তুলনামূলক কম হলেও ক্রেতার কাছে পৌঁছাতে গিয়ে দাম বেড়ে যায়। রানি রাসমণি ঘাটে প্রতি মণ ইলিশ ২৪ থেকে ২৫ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। হিসাব করলে ঘাটে প্রতি কেজি ইলিশের দাম দাঁড়ায় ৬২০ থেকে ৬৪০ টাকা। কিন্তু পরিবহন, আড়তদারি এবং অন্যান্য খরচ যোগ হওয়ায় খুচরা পর্যায়ে দাম অনেকটাই বেড়ে যায়।
বিক্রেতারা দাম বৃদ্ধির কারণ হিসেবে ইলিশ আহরণের ব্যয় বৃদ্ধির কথা তুলে ধরছেন। তাঁদের ভাষ্য, নৌকা পরিচালনা, জ্বালানি তেল এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচ আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। ফলে আহরণের এই বাড়তি খরচ বাজারে মাছের দামের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে। এছাড়া চলতি মাসে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণেও জেলেরা সমস্যায় পড়ছেন।
চট্টগ্রাম জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সালমা বেগম স্বীকার করেছেন যে জ্বালানি তেলসহ আনুষঙ্গিক ব্যয় বৃদ্ধি একটি সত্য। তবে তিনি মনে করেন, এত পরিমাণ মাছ ধরা পড়লে দাম কমানোর কথা। আনোয়ারা উপকূলে ইলিশের ভালো আহরণ চলছে বলেও তিনি জানান। ঘাটগুলোতে তদারকি অব্যাহত রাখার কথাও বলেন এই কর্মকর্তা।
মৎস্য দপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, বর্তমানে উপকূলে যে ইলিশ ধরা পড়ছে তার আকার তুলনামূলক ছোট, ওজন ৪০০ থেকে ৫০০ গ্রামের মধ্যে। তবে স্বাদ বেশি হওয়ায় এই মাছের চাহিদা চট্টগ্রামের বাজারে অনেক বেশি। অন্য এলাকায় ছোট ইলিশের চাহিদা কম থাকলেও চট্টগ্রামে এই মাছের কদর রয়েছে।
নগরের বাজারগুলোতে সরবরাহ কম দেখা যাচ্ছে। কাজীর দেউড়ি বাজারে কথা হয় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইসমাইলের সঙ্গে। তিনি বলেন, বাজারে যে ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে তার আকার অত্যন্ত ছোট—৫০০ গ্রামও হবে না। এমন মাছের দামও কেজিপ্রতি ১ হাজার ৫০০ টাকা। এত দামে ইলিশ কেনা সম্ভব নয় বলে তিনি অন্য মাছের দিকে ঝুঁকছেন।
এদিকে জ্যেষ্ঠ জেলা কৃষি বিপণন কর্মকর্তা শাহ মোহাম্মদ মোর্শেদ কাদের জানান, বাজারে সরবরাহব্যবস্থা বিঘ্ন হলে দাম বেড়ে যায়। ইলিশের পর্যাপ্ত জোগান থাকলেও দীর্ঘদিন ধরেই এই মাছের দাম বেশি। বাজার তদারকি কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং কোনো পর্যায়ে অযৌক্তিকভাবে দাম বাড়ালে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




