যশোর শহরের নীলগঞ্জ এলাকায় অবস্থিত সংসদ সদস্য গোলাম রসুলের বাসভবনে মঙ্গলবার হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় একটি কওমি মাদ্রাসার যাতায়াতের রাস্তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলা বিরোধই এই হামলার মূল কারণ বলে জানিয়েছে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র। ওই মাদ্রাসা ও মসজিদ সংসদ সদস্যের বাড়ির বিপরীতেই অবস্থিত।

হামলার ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে বিএনপির নেতা-কর্মীদের মদদ দেওয়ার অভিযোগ তোলা হয়েছে। জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এক বিবৃতিতে বলেন, পরিকল্পিতভাবে একদল সন্ত্রাসী এমপির বাসায় ন্যক্কারজনক হামলা চালিয়েছে, যাতে বিএনপির সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। তিনি হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান। তাঁর বিবৃতিতে আরও বলা হয়, দুর্বৃত্তায়ন বা 'মব' করে জামায়াতকে বিতর্কিত করতে সামাজিক মাধ্যমসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে টার্গেটেড অপপ্রচার চালানো হচ্ছে, যা অপ্রত্যাশিত।

অন্যদিকে, যশোর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন (খোকন) এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। তাঁর ভাষ্য, এই ঘটনার সঙ্গে রাজনীতির কোনো সম্পর্ক নেই; এটি মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ও অভিভাবকদের সঙ্গে বিরোধের ফল। তিনি বলেন, বিএনপির নেতা-কর্মীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল যাতে তারা এই ঘটনায় জড়িত না হয় এবং মানুষের চলাচলে যাতে বিঘ্ন না ঘটে সেটা নিশ্চিত করতে।

ঘটনার বিবরণ থেকে জানা যায়, গত সোমবার সংসদ সদস্যের মেয়ে অনন্যা মাদ্রাসার কয়েকজন শিক্ষার্থীকে ভয় দেখানোর অভিযোগ ওঠে। এ নিয়ে পুলিশের মধ্যস্থতায় সমঝোতা হলেও মঙ্গলবার সকাল ১১টায় সংসদ সদস্য ও তাঁর মেয়ে মাদ্রাসায় গেলে আবারো বিরোধ শুরু হয়। এরপরই স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবকেরা বিক্ষুব্ধ হয়ে এমপির বাড়িতে হামলা চালান। বাড়ির জানালার কাচ ও সিসিটিভি ক্যামেরা ভাঙচুর করা হয়। বর্তমানে বাড়ির প্রধান ফটকে তালা দেওয়া রয়েছে এবং পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

হামলার প্রতিবাদে জামায়াতের নেতা-কর্মীরা সন্ধ্যায় যশোর শহরে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি সিভিল কোর্ট মোড় থেকে শুরু হয়ে দড়াটানা মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। এতে জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আবু জাফর সিদ্দিকী, সহকারী সেক্রেটারি গোলাম কুদ্দুস, প্রচার সেক্রেটারি মোহাম্মদ শাহবুদ্দিন বিশ্বাস ও শহর জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমির ইসমাইল হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ, বিক্ষোভকারী ও রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করেন। তিনি জানান, বুধবার বিকেল তিনটায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে মাদ্রাসার অভিভাবক, কর্তৃপক্ষ, স্থানীয় বাসিন্দা ও সংসদ সদস্য গোলাম রসুলকে নিয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এদিকে, সংসদ সদস্যের ভাই তরিকুল ইসলাম বলেন, রাস্তাটি সরু হওয়ায় সব সময়ই ভিড় থাকে এবং মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কোনো ভ্রুক্ষেপ করেনি বলে তিনি অভিযোগ করেন। অন্যদিকে, মাদ্রাসার প্রধান মুফতি কবির হোসাইন জানান, সাড়ে ৮ শতক জমিতে মাদ্রাসা ও মসজিদ তৈরি। শিক্ষার্থীরা টিফিনের সময় রাস্তায় খেলাধুলা করে এবং এমপির মেয়ে বিভিন্ন সময়ে শিক্ষার্থীদের গায়ে পানি মেরেছেন ও মারধর করেছেন বলে তিনি অভিযোগ করেন।