ঘরোয়া হকির দ্বিতীয় স্তর, ঢাকার প্রথম বিভাগ লিগ, দীর্ঘ বিরতির অবসান ঘটিয়ে আবার মাঠে নামতে প্রস্তুত। আজ ফেডারেশন কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত লিগ কমিটির প্রথম সভায় ১১টি ক্লাবের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে এই প্রত্যাবর্তনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মতিঝিল বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার এবং প্রথম বিভাগ লিগ কমিটির চেয়ারম্যান হারুন-অর-রশিদ। উপস্থিত ছিলেন ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ইশতিয়াক সাদেকসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা। সভা শেষে ফেডারেশনের পক্ষ থেকে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সব ক্লাবই খেলায় ফেরার বিষয়ে একমত পোষণ করেছে।

এই সিদ্ধান্তের পেছনের প্রধান কারণ হলো ফেডারেশনের দেওয়া আর্থিক প্রতিশ্রুতি। সাধারণ সম্পাদক ইশতিয়াক সাদেক প্রথম বিভাগের প্রতিটি ক্লাবকে দুই লাখ পঞ্চাশ হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়ার প্রস্তাব দেন। এই আশ্বাসে ক্লাবগুলোর মধ্যে দীর্ঘদিনের জমে থাকা অনিশ্চয়তা কাটে। উল্লেখ্য, সর্বশেষ ২০২৩ সালে এই লিগ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। পরের বছর, অর্থাৎ ২০২৪ সালে, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দায়িত্ব নেওয়া অ্যাডহক কমিটি চেষ্টা সত্ত্বেও প্রথম বিভাগ লিগ আয়োজন করতে পারেনি। নানা জটিলতার মধ্যে ১১টি ক্লাব ফেডারেশনের কাছে প্রতি ক্লাবে পাঁচ লাখ টাকা করে সাহায্য চেয়েছিল, কিন্তু সেই অর্থ জোগাড় করা সম্ভব হয়নি। ফলে লিগটি বাতিলই থেকে যায়।

এখন নতুন উদ্যোগের অংশ হিসেবে আগামী ৬ ও ৭ সেপ্টেম্বর খেলোয়াড়দের দলবদলের কার্যক্রম সম্পন্ন হবে। এরপর ২০ সেপ্টেম্বর থেকে প্রতিযোগিতার ম্যাচগুলো শুরু হবে। এবারের আসরে বিদেশি কোনো খেলোয়াড় অংশ নিতে পারবেন না। পূর্বে প্রতি ক্লাবের জন্য দুজন করে বিদেশি ক্রীড়াবিদের কোটা ছিল; কিন্তু এবার স্থানীয় খেলোয়াড়দের পর্যাপ্ত সুযোগ নিশ্চিত করতে এবং নতুন প্রতিভা খুঁজে বের করতে এই নিয়ম বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে, প্রতিটি দল বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি) থেকে সর্বোচ্চ চারজন এবং তিন বাহিনী থেকে সর্বোচ্চ চারজন করে খেলোয়াড় দলে নিতে পারবে। লিগটি এক পর্বের পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হবে।

ফেডারেশনের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে প্রথম বিভাগ লিগ শেষ হওয়ার পরই প্রিমিয়ার লিগ আয়োজন করা হবে। কারণ প্রিমিয়ার লিগ আয়োজনের জন্য প্রথম বিভাগ সম্পন্ন হওয়া একটি অপরিহার্য পূর্বশর্ত। এভাবে দেশের ঘরোয়া হকির কাঠামো আবার স্বাভাবিক ধারায় ফিরতে চলেছে, যা শুধু ক্লাবগুলোর জন্যই নয়, স্থানীয় ক্রীড়াবিদদের উন্নয়নের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।