দেশে শিশুদের জ্বর-সর্দি হলে প্রতিবেশী বা দোকানির পরামর্শে অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ানোর প্রবণতা ব্যাপক। এমনকি অনেক অভিভাবকই চিকিৎসককে অ্যান্টিবায়োটিক লিখতে চাপ দেন। কিন্তু এই অভ্যাস দীর্ঘমেয়াদে শিশুর স্বাস্থ্যের জন্য কতটা ক্ষতিকর, তা নিয়ে সচেতনতার অভাব রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অপ্রয়োজনে বারবার অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ালে শিশুর অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস হয়। এই ব্যাকটেরিয়াগুলো হজমশক্তি ও রোগ প্রতিরোধক্ষমতা গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এগুলো নষ্ট হয়ে গেলে শিশু ঘন ঘন অসুস্থ হয়ে পড়ে। সাধারণ সর্দি-কাশির সঙ্গেও তার শরীর লড়াই করতে পারে না।
সবচেয়ে ভয়াবহ পরিণতি হলো ড্রাগ রেজিস্ট্যান্স বা ওষুধপ্রতিরোধ ক্ষমতা। অসম্পূর্ণ কোর্সে বা অপ্রয়োজনে অ্যান্টিবায়োটিক দিলে শিশুর শরীরের ব্যাকটেরিয়া ওষুধের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। পরবর্তীতে সত্যিকারের মারাত্মক সংক্রমণ হলে অ্যান্টিবায়োটিক আর কাজ করে না। বর্তমানে বাংলাদেশে এমন শিশুর সংখ্যা বাড়ছে, যাদের শরীরে ছয় থেকে সাত ধরনের অ্যান্টিবায়োটিক কোনো প্রভাব ফেলছে না—এ অবস্থা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
গবেষণায় আরও দেখা গেছে, জীবনের প্রথম দিকে অপ্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার মস্তিষ্কের স্বাভাবিক বিকাশে বাধা দিতে পারে। এর ফলে শিশুর মনোযোগের ঘাটতি, অতিরিক্ত চঞ্চলতা ও নানা আচরণগত সমস্যা দেখা দেওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। এছাড়া অ্যান্টিবায়োটিকের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় ডায়রিয়া, বমি, অ্যালার্জি বা ত্বকে র্যাশের মতো সমস্যাও হতে পারে।
পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার লিমিটেড, ময়মনসিংহের শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মানিক মজুমদার জানান, কখনো নিজ থেকে বা দোকানির পরামর্শে শিশুকে অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ানো উচিত নয়। শুধুমাত্র নিবন্ধিত চিকিৎসকের পরামর্শেই এটি দিতে হবে। তিনি আরও বলেন, ভাইরাসজনিত সাধারণ সর্দি, কাশি বা জ্বরে অ্যান্টিবায়োটিকের কোনো প্রয়োজন নেই। সঠিক যত্ন ও পুষ্টির মাধ্যমে এসব রোগ নিজে থেকেই সেরে যায়।
চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী, অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া শুরু করলে পুরো কোর্স শেষ করতে হবে। মাঝপথে বন্ধ করলে ড্রাগ রেজিস্ট্যান্সের ঝুঁকি বাড়ে। পাশাপাশি শিশুর রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াতে সুষম পুষ্টিকর খাবার, বিশুদ্ধ পানি, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও হাঁচি-কাশির শিষ্টাচার মেনে চলার ওপর জোর দেন তিনি।

