সালমান খানের ৫৯তম জন্মদিন উপলক্ষে ফিরে দেখা হলো তাঁর বর্ণিল ক্যারিয়ার ও দর্শকপ্রিয়তার নেপথ্য কারণ। ১৯৬৫ সালের ২৭ ডিসেম্বর মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরে জন্ম নেওয়া এই অভিনেতার পুরো নাম আবদুল রশিদ সেলিম সালমান খান। তিন ভাইয়ের মধ্যে জ্যেষ্ঠ তিনি। ছাত্রজীবনে তিনি সাঁতার প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হন এবং দেশের প্রতিনিধি হিসেবে বিদেশেও অংশ নেন। কিন্তু সাঁতার ছেড়ে সিনেমায় যোগ দেন এবং তাক লাগিয়ে দেন।
‘বিবি হো তো অ্যায়সি’ ছবির মাধ্যমে রুপালি পর্দায় তাঁর অভিষেক হয়, যেখানে তিনি পার্শ্বচরিত্রে অভিনয় করেন। কেন্দ্রীয় চরিত্রে প্রথম চলচ্চিত্র ‘ম্যায়নে প্যায়ার কিয়া’ ব্যবসাসফল হয় এবং ৩৫তম ফিল্মফেয়ার পুরস্কারে শ্রেষ্ঠ অভিনেতা বিভাগে মনোনয়ন পেয়েছিলেন তিনি। তারপর থেকে বলিউডের ব্যবসাসফল ও জনপ্রিয় সিনেমার তালিকায় তাঁর দীপ্তিময় উপস্থিতি। ১৭টি ব্যাক-টু-ব্যাক ১০০ কোটি ক্লাব পার হওয়া সিনেমা রয়েছে তাঁর নামে। অভিনয়ের পাশাপাশি প্রযোজক হিসেবেও নাম লিখিয়েছেন তিনি।
সাফল্যের সঙ্গে সঙ্গে বিতর্কও ছুঁয়েছে তাঁকে। দুর্ব্যবহারের জন্য সমালোচিত হয়েছেন, আদালত চত্বরে দৌড়াতে হয়েছে। কিন্তু এসব তাঁর জনপ্রিয়তায় ভাটা ফেলেনি। বরং দিনে দিনে তিনি আরও বেশি মানুষের হৃদয়ে পৌঁছেছেন। সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের মধ্যে তাঁর বিপুল জনপ্রিয়তা।
সালমান খানের অভিনীত হিন্দি সিনেমার সংখ্যা এক শরও বেশি। অ্যাকশন, রোমান্টিক—সব ধরনের চরিত্রে তিনি নিজেকে মেলে ধরেছেন। তাঁর বাচনভঙ্গি, কণ্ঠস্বর ও শরীরী ভাষা দর্শককে মুগ্ধ করে। ‘ম্যায়নে প্যায়ার কিয়া’র ‘দোস্তি কা উশুল হ্যায় ম্যাডাম: নো সরি নো থ্যাংক ইউ’ থেকে ‘সাজন’য়ের ‘আহাত সে কয়ি আয়ে তো লাগতা হ্যায় কি তুম হো’—এসব সংলাপ আজও মানুষের মুখে মুখে ফেরে। ‘হাম আপকে হ্যায় কৌন’ সিনেমার ‘নিশাজি, আগার শাদি মে...’ সংলাপগুলো তরুণদের কাছে জনপ্রিয় ছিল।
‘বজরংগী ভাইজান’-এ একজন আলাভোলা বজরংগী ভক্ত ভারতীয়র চরিত্রে অভিনয় করে তিনি দেশ-বিদেশে সুপারহিট হন। ‘প্রেম রতন ধন পায়ো’ সিনেমায় ‘প্রেম’ হিসেবে ফিরে এসে ‘হার ফ্যামিলি মে প্রবলেম হ্যায়...’ সংলাপটি দিয়ে নিজের করে নেন দর্শককে। ‘তেরে নাম’ সিনেমার জন্য মাথার চুল ফেলতে হয়েছিল তাঁকে। ‘ওয়ান্টেড’-এ পুলিশ অফিসার চরিত্রটি নিজস্বতা দিয়ে ফুটিয়ে তোলেন। ‘সুলতান’-এ হারিয়ানার এক পালোয়ান কুস্তিগিরের ভূমিকায় মুগ্ধ করেন দর্শককে।
ব্যক্তিত্বের জন্যও প্রশংসিত সালমান। ফেসবুকে পারিবারিক ছবি পোস্ট করলে ভক্তরা মন্তব্য করেন। সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, পরিবারের ছোটদের সঙ্গে ভালো সময় কাটান তিনি। ভাইবোন, ভাতিজা-ভাতিজি, ভাগনে-ভাগনিদের সঙ্গে মজা করেন। নানা দাতব্য কাজেও সক্রিয় তিনি। নিজের দাতব্য সংস্থা ‘বিয়িং হিউম্যান’-এর মাধ্যমে জনকল্যাণমূলক কাজ করেন। নিয়মিত রক্তদান কর্মসূচিতেও অংশ নেন।
সালমানের একটি বিশেষ অভ্যাস হলো হাতে ফিরোজা রঙের পাথর বসানো ব্রেসলেট পরা। বাস্তব ও পর্দায়—সব জায়গায় তিনি এটি খোলেন না। এ ছাড়া তিনি গানও গেয়েছেন। ১৯৯৯ সালে ‘হ্যালো ব্রাদার’ ছবির ‘চান্দি কি ডাল পার’ গানের মাধ্যমে প্রথমবার কণ্ঠ দেন। ২০১১ সালের ‘বডিগার্ড’-এর টাইটেল গানেও কণ্ঠ দিয়েছিলেন তিনি।
বাংলাদেশি দর্শকদের উদ্দেশ্যেও সালমান বার্তা দিয়েছেন। সব মিলিয়ে বিতর্ক ও সমালোচনা সত্ত্বেও তাঁর জনপ্রিয়তা অটুট রয়েছে। তাঁর অভিনয়, ব্যক্তিত্ব ও মানবিক কাজ তাকে দর্শকদের মনে অমর করে রেখেছে।


