নওগাঁ জেলার গুড়িহারী-কামদেবপুর এলাকার আলোর পাঠশালা নামক প্রতিষ্ঠানের দশম শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রী মুশফিকা খাতুন। ভবিষ্যতে তিনি একজন ডাক্তার হতে চান। তবে তার লক্ষ্য শুধু নিজের ক্যারিয়ার গড়া নয়; বরং তিনি আশপাশের দরিদ্র ও অসহায় মানুষদের বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দিতে চান। দারিদ্র্যের তীব্র চাপ সত্ত্বেও নিজের স্বপ্নের প্রতি অবিচল থেকেছেন এই মেধাবী শিক্ষার্থী।
মুশফিকার বাবা মো: আল মামুন হক একজন কৃষক। সামান্য জমির ফসল দিয়ে সংসার চালানোই তার জন্য প্রতিদিনের লড়াই। স্ত্রী মোসাঃ আয়েশা খাতুন গৃহিণী। তিন সন্তানের মধ্যে মুশফিকা দ্বিতীয়। পরিবারের আর্থিক অবস্থা খুবই সীমিত হলেও মেয়ের পড়ালেখার প্রতি অদম্য আগ্রহ দেখে বাবা সব কষ্ট মেনে নিতে রাজি। তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, গত তিন বছর ধরে মুশফিকা স্কুলে একদিনও অনুপস্থিত হয়নি। তার শতভাগ উপস্থিতি প্রমাণ করে পড়ালেখার প্রতি সে কতটা নিবেদিত। যত কষ্টই হোক, মেয়ের ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন পূরণে আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাব।
২০২২ সালে পঞ্চম শ্রেণি পাস করার পর মুশফিকা গুড়িহারী-কামদেবপুর আলোর পাঠশালায় ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হয়। বর্তমানে সে নিয়মিত ও কৃতী শিক্ষার্থী হিসেবে দশম শ্রেণিতে পড়ছে। নিজের স্বপ্নের কথা জানাতে গিয়ে মুশফিকা বলে, ছোটবেলা থেকেই ডাক্তার হওয়ার ইচ্ছা আমার। গ্রামের অনেক অসহায় ও গরিব মানুষকে বিনা চিকিৎসায় মারা যেতে দেখেছি। পড়ালেখা শেষ করে আমি একজন আদর্শবান ডাক্তার হয়ে এলাকার দুস্থ মানুষের বিনামূল্যে সেবা করতে চাই।
এই অগ্রযাত্রায় মুশফিকা গুড়িহারী-কামদেবপুর আলোর পাঠশালার সকল শিক্ষক ও প্রথম আলো ট্রাস্টের প্রতি গভীর ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে। তাদের সহযোগিতায়ই সে তার স্বপ্নের পথে এগিয়ে যেতে পারছে বলে মনে করে।




