আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত ব্যক্তিদের সম্পদ বাজেয়াপ্তের রায় কার্যকর করতে ট্রাইব্যুনাল আইনের কার্যবিধি সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়কে এই উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে। বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল-২ বুধবার এ সংক্রান্ত আদেশ দেয়। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ছয়টি মামলার রায়ে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানসহ বহু দণ্ডিত ব্যক্তির সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। ভবিষ্যতে অন্যান্য মামলার রায়েও আসামিদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত হতে পারে। এই পরিস্থিতিতে দণ্ডিত আসামিদের সম্পদ কীভাবে বাজেয়াপ্ত হবে এবং তা কীভাবে ভুক্তভোগীদের মধ্যে বণ্টন করা হবে, সে বিষয়ে ট্রাইব্যুনাল-২-এর কাছে বুধবার নির্দেশনা চান চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।

চিফ প্রসিকিউটর আদালতকে জানান, ট্রাইব্যুনালের কার্যবিধিতে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো উল্লেখ নেই। ফলে দণ্ডিত আসামিদের সম্পদ বাজেয়াপ্তের আদেশ হলেও তা কার্যকর করা যাচ্ছে না। এতে বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, এ ব্যাপারে তারা কাজ করতে পারেন এবং চিফ প্রসিকিউটরের এখানে দায়িত্ব রয়েছে। তিনি পরামর্শ দেন, ট্রাইব্যুনাল-১, ট্রাইব্যুনাল-২ এবং চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয় একত্রে বসে সম্পদ বাজেয়াপ্ত ও বণ্টনের জন্য ট্রাইব্যুনাল আইনের কার্যবিধি নির্ধারণ করা যেতে পারে।

জবাবে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, তাঁরা ইতিমধ্যে ট্রাইব্যুনাল-১-এর সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করেছেন এবং তাঁরাও একই ধরনের মতামত দিয়েছেন। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া বা প্রসিডিউর সম্পর্কে দুই ট্রাইব্যুনালের বিচারপতি এবং চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয় একসঙ্গে বসে সমন্বয় করে যাতে রুলস অব প্রসিডিউর পরিবর্তন করা যায়, সে বিষয়ে তাঁকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।