আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বুধবার তার কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে লেখক ও শিক্ষাবিদ মুহম্মদ জাফর ইকবাল সম্পর্কে তীব্র সমালোচনামূলক মন্তব্য করেছেন। তিনি জাফর ইকবালকে ‘জ্ঞানপাপী’ এবং ‘শিক্ষক নামের কলঙ্ক’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেছেন, জাফর ইকবালকে আগে সবাই একজন ‘সর্বজন শ্রদ্ধেয় শিক্ষক’ হিসেবেই সম্মান করতেন।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে চিফ প্রসিকিউটর অধ্যাপক জাফর ইকবালের প্রসঙ্গ টেনে আনেন। যুক্তিতর্ক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এই মন্তব্য করেন।
সাংবাদিকদের উদ্দেশে আমিনুল ইসলাম বলেন, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাত্রদের ‘রাজাকারের নাতিপুতি’ বলে চিহ্নিত করেছিলেন, যার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা ‘রাজাকার রাজাকার, কে বলেছে কে বলেছে? স্বৈরাচার স্বৈরাচার’ স্লোগান দিয়েছিল। তিনি অভিযোগ করেন, ‘স্বৈরাচার স্বৈরাচার’ অংশটি বাদ দিয়ে শুধুমাত্র ‘রাজাকার রাজাকার’ অংশটি তুলে ধরে শিক্ষার্থীদের চরিত্রহনন এবং আন্তর্জাতিকভাবে তাদের হেয়প্রতিপন্ন করা হয়েছিল। চিফ প্রসিকিউটর আরও বলেন, সেই ঘৃণা ও বিদ্বেষের প্রেক্ষাপটেই জাফর ইকবাল মন্তব্য করেছিলেন, ‘আমি আর রাজাকারের বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো দিন যাব না।’
এই মন্তব্যের প্রসঙ্গ ধরে আমিনুল ইসলাম বলেন, জাফর ইকবালের এই উক্তিটি ছিল ‘জ্ঞানপাপী’সুলভ। তার মতে, জাফর ইকবালের বোঝা উচিত ছিল যে এরা ‘রাজাকারের নাতিপুতি’ নয়, বরং সাধারণ ছাত্র-ছাত্রী যারা নিছক প্রতিবাদ জানিয়েছিল। চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘স্বৈরাচার স্বৈরাচার’ অংশ বাদ দিয়ে কেবল ‘রাজাকার রাজাকার’ অংশটি জাতির সামনে তুলে ধরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে না যাওয়ার যে প্রতিজ্ঞা জাফর ইকবাল করেছিলেন, সেজন্যই বলা হয়েছে যে তার মতো জ্ঞানপাপীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত এবং এরাই ‘শিক্ষক নামের কলঙ্ক’।
উল্লেখ্য, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে অধ্যাপক জাফর ইকবালের বিরুদ্ধে তদন্ত করছে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা।




