রাজশাহীর কাটাখালী পৌরসভার তিনটি মহল্লায় বিদ্যুতের ট্রান্সফরমার মেরামতের পর সংযোগ দিতেই অসংখ্য বাড়ির বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি পুড়ে গেছে। ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার দিবাগত গভীর রাতে, যখন নেসকোর কর্মীরা একটি পোর্টেবল ট্রান্সফরমার সংযোগ দেন। সংযোগ দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মসজিদের একটি বাল্ব পুড়ে যায়, যা দেখে কর্মীরা তাৎক্ষণিকভাবে লাইন বিচ্ছিন্ন করেন। তবে ততক্ষণে বাখরাবাজ মোল্লাপাড়া, বাখরাবাজ মধ্যপাড়া ও বাখরাবাজ স্কুলপাড়া মহল্লার অনেক বাড়ির টেলিভিশন, ফ্রিজ, এসি ও অন্যান্য ইলেকট্রনিকস পণ্য নষ্ট হয়ে যায়।
ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনার পরপরই বাড়ি থেকে বেরিয়ে এসে নেসকোর কর্মীদের আটকে রাখেন এবং তাদের বিরুদ্ধে হামলার ঘটনাও ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কর্মীদের উদ্ধার করে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় তারা নেসকোর কাটাখালী কার্যালয়ে খবর দেন। পরে রাত দুইটার দিকে কর্মীরা এসে পোর্টেবল ট্রান্সফরমার স্থাপন করে লাইন চালু করেন, কিন্তু লাইনে ওভার ভোল্টেজ থাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের রাজশাহী জেলা কমিটির আহ্বায়ক নাহিদুল ইসলাম বলেন, তিনটি মহল্লার প্রায় প্রতিটি বাড়ির বৈদ্যুতিক পণ্যই পুড়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত লোকজন তার বাড়িতে এসে ক্ষতিপূরণের দাবি জানাচ্ছেন। স্থানীয় বাসিন্দা মো. সানা জানান, তার বাড়ির বাতি, টেলিভিশন, ফ্রিজ ও এসি—সবই পুড়ে গেছে। তিনি মনে করেন, নেসকো কর্মীরা ওভার ভোল্টেজে সংযোগ চালু করেছিলেন বলেই এত বড় ক্ষতি হয়েছে।
এ ব্যাপারে নেসকোর রাজশাহীর বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-৫-এর নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন বলেন, তিনটি লাইন দিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। কোনো কারণে দুটি লাইন এক হয়ে গেলে আনলিমিটেড বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়, যা অত্যন্ত বিপজ্জনক। এই ঘটনায় এমনটিই হয়েছে বলে তিনি মনে করেন। তবে কোথায় এই সমস্যা হয়েছে তা নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। ক্ষতিপূরণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিদ্যুতের ভালো ও খারাপ দুটি দিকই আছে। দুর্ঘটনা ঘটে গেলে এতগুলো বাড়ির ক্ষতিপূরণ দেওয়া সম্ভব নয়।
ঘটনার খবর কাটাখালী পৌর বিএনপিও নিয়েছে। পৌর বিএনপির আহ্বায়ক নুরুল ইসলাম জানান, এলাকায় প্রায় ৩০০ বাড়ি রয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করা হচ্ছে। অন্যদিকে, নেসকোর সার্কেল-১-এর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মাহবুবুল আলম চৌধুরী ও প্রধান প্রকৌশলী (অপারেশন) জিয়াউল ইসলাম বলেছেন, এই দুর্ঘটনার বিষয়ে তাদের কাছে কোনো তথ্য পৌঁছায়নি। তারা বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখবেন বলে জানিয়েছেন।




