কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভবিষ্যৎ নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করতে দীর্ঘ এক খোলা চিঠি প্রকাশ করেছেন মেটার প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গ। 'দ্য ফিউচার ইজ ফর এভরিওয়ান: দ্য পাথ টু আ পজিটিভ এআই ফিউচার' শিরোনামের এই চিঠিতে তিনি বলেছেন, 'ব্যক্তিকে ক্ষমতায়ন'-এর কৌশলে বিশ্বাসী মেটা। ফলে কোম্পানিটি আবারও ওপেন সোর্স এআই মডেল প্রকাশ করা শুরু করবে, যা তিনি মানুষের ক্ষমতায়নের জন্য 'ইতিবাচক ও গুরুত্বপূর্ণ শক্তি' হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তাঁর মতে, এআই প্রযুক্তির রূপ নির্ধারণে ব্যবহারকারীদেরই দায়িত্বশীল ভূমিকা নিতে হবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি 'সুপার ইন্টেলিজেন্স' কোনো ক্ষুদ্র গোষ্ঠী বা প্রতিষ্ঠানের হাতে কেন্দ্রীভূত হয়, তবে তা সবার জন্য ক্ষতিকর ফল বয়ে আনতে পারে। এই প্রসঙ্গে তিনি মার্কিন সরকারের সমালোচনা করে বলেছেন, কারও পর্যবেক্ষণ থেকে শেখার নীতিটি রক্ষা করা জরুরি, যাকে অনেকে ভুলভাবে ক্ষতিকর বলে প্রচার করছে। আরও জানা গেছে, মেটা তাদের ডেটা সেন্টারের আশপাশের সম্প্রদায়ের জন্য 'ফিউচার ইজ ফর এভরিওয়ান ফান্ড' নামে এক বিলিয়ন ডলারের একটি তহবিল গঠন করবে এবং এই স্থাপনাগুলো বিশ্বের সবচেয়ে পানি-সাশ্রয়ী হবে বলে দাবি করেছেন তিনি। এদিকে নতুন এআই মডেল নিয়ন্ত্রণে সরকারের আরও আগে থেকে সম্পৃক্ত হওয়া উচিত বলেও মত দিয়েছেন জাকারবার্গ। ট্রাম্প প্রশাসনের প্রস্তাবিত ৩০ দিনের পর্যালোচনা সময়সীমাকে তিনি উল্লেখযোগ্য সময় বলে স্বীকার করলেও, কঠোর প্রক্রিয়ার বদলে এআই ল্যাব ও সরকারের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা পছন্দ করেন তিনি। মেটা তাদের মডেল প্রকাশের ওপর নতুন তদারকি ব্যবস্থা চালু করবে, যাতে কোম্পানির বোর্ড নির্ধারিত নিরাপত্তা নির্দেশনা মানা হচ্ছে কি না তা যাচাই করতে পারে। এছাড়া অন্য কোম্পানিগুলোকেও এই কাঠামো অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। তিনি বলেন, বেশিরভাগ এআই ল্যাব কোম্পানি ও প্রতিষ্ঠানের জন্য কাজ করছে, তাই সেখানকার অগ্রগতি ব্যক্তির চেয়ে বড় প্রতিষ্ঠানকেই বেশি শক্তি দেবে। বর্তমান অর্থবছরে মেটার ব্যয় ধরা হয়েছে ১৪৫ বিলিয়ন ডলার, যা এআই পরিকাঠামো খাতে বিনিয়োগের অংশ। ২০২৮ সালের মধ্যে কোম্পানিটি ৬০০ বিলিয়ন ডলার খরচের পরিকল্পনা করছে। সম্প্রতি ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে দেওয়া এক নিবন্ধে জাকারবার্গ বলেছিলেন, এআই নতুন জিনিস আবিষ্কার, ব্যবসা গড়া এবং জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে পারে। উল্লেখ্য, চীনা এআই মডেলগুলো মার্কিন মডেল থেকে তথ্য নিয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখার কথা জানিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ২০০৪ সালে ফেসবুক প্রতিষ্ঠা করা জাকারবার্গের মোট সম্পদের পরিমাণ সোমবার ২০৬.২ বিলিয়ন ডলার বলে ধারণা করা হচ্ছে।