রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় জুলাই আন্দোলন চলাকালে নাজমুল মিয়া নামে এক ব্যক্তি নিহত হওয়ার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অজয় কর খোকনকে গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। সোমবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জামশেদ আলমের আদালত পুলিশের আবেদন মঞ্জুর করে এই আদেশ প্রদান করেন। এর আগে ২০২৫ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর রাতে গুলশান এলাকা থেকে অজয় করকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তী দিন সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা একটি মামলায় তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল এবং সেই থেকে তিনি সেখানেই রয়েছেন।

প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক মো. মিজানুর রহমান জানান, আজ আসামিকে আদালতে হাজির করে তদন্ত কর্মকর্তা গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। আবেদনে উল্লেখ করা হয়, তদন্তকালে প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য ও অন্যান্য তথ্য-প্রমাণে হত্যাকাণ্ডে অজয় করের জড়িত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে। তাই তদন্ত সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত তাকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে রাখা জরুরি বলে মনে করছে তদন্ত সংস্থা। আবেদনে আরও বলা হয়, জামিনে মুক্তি পেলে জননিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। শুনানি শেষে আদালত এই আবেদন মঞ্জুর করেন।

গত ৩০ জুলাই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদপুর থানার উপপরিদর্শক মো. আখতারুজ্জামান সরকার অজয় করকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর জন্য আবেদন করেছিলেন। সেদিন আসামির উপস্থিতিতে শুনানির জন্য আজকের তারিখ নির্ধারণ করা হয়। মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর ও লালমাটিয়া এলাকায় আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালানো হয়। অভিযোগে বলা হয়, ওই দিন দুপুরে ধানমন্ডি হকার্স মার্কেট সংলগ্ন এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণ এবং এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণের ঘটনায় নাজমুল মিয়া গুলিবিদ্ধ হন। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এই ঘটনায় নাজমুলের এক সহকর্মী মোহাম্মদপুর থানায় এজাহারভুক্ত আসামিদের পাশাপাশি অজ্ঞাত ৪০০ থেকে ৫০০ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।