বান্দরবান জেলায় গতকাল শনিবার বিকেল থেকে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ হ্রাস পাওয়ায় সাঙ্গু নদের পানি কমতে শুরু করলেও জেলা শহরের বেশিরভাগ এলাকার বাসিন্দারা এখনো পানিবন্দী অবস্থায় রয়েছেন। বান্দরবান-চট্টগ্রাম সড়ক, বান্দরবান-রাঙামাটি সড়ক এবং জেলা সদরের সঙ্গে আলীকদম, রুমা ও রোয়াংছড়ি উপজেলার সংযোগকারী সড়কগুলো পানির নিচে তলিয়ে গেছে। পাহাড়ধসের ঘটনায় কিছু সেতুও সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়েছে, যার ফলে বান্দরবান কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। বন্যায় অবকাঠামোর পাশাপাশি কৃষিখাতেও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে; জেলার সাড়ে তিন হাজার একরের বেশি জমির ফসল নষ্ট হয়েছে বলে জানা গেছে।

আজ রোববার সকালে জেলা শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বন্যাকবলিত কিছু অঞ্চল থেকে পানি কমতে শুরু করলেও যেসব বাড়ি থেকে পানি সরে গেছে সেখানকার লোকজন পলি ও কাদা পরিষ্কার করার কাজে ব্যস্ত। আর্মিপাড়ার বাসিন্দারা জানান, টানা আট দিন পানিতে ডুবে থাকার পর রাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেড় থেকে দুই ফুট পানি নেমে গেছে। বালাঘাটা পুলিশ লাইন এলাকায় সকাল দশটায়ও নৌকা দিয়ে মানুষ পারাপার করা হচ্ছে। একই চিত্র দেখা গেছে ইসলামপুর, কাসেমপাড়ার কিছু অংশ, লেমুঝিরি, ক্যাচিংঘাটাসহ আরও কয়েকটি এলাকায়।

বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে কৃষিখাতে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পরিচালক আবু নাঈম মো. সাইফুদ্দিন জানিয়েছেন, আমনের বীজতলা, গ্রীষ্মকালীন সবজিখেত, জুমখেত, আদা, হলুদ ও ফলের বাগান তলিয়ে গেছে। প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী পাহাড়ধস ও বন্যার পানিতে ৩ হাজার ৭০২ একর জমির ফসল নষ্ট হয়েছে। তবে বন্যা শেষে মাঠপর্যায়ে পরিদর্শনের পর ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সাখাওয়াত হোসেন জানান, বান্দরবান-রাঙামাটি সড়কের শীলক খালের ওপর ব্রিজঘাটা বেইলি সেতু প্রায় পুরোপুরি ভেসে গেছে। ওই সড়কে যানবাহন চলাচল শুরু করতে কমপক্ষে দুই সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। পাহাড়ধস ও বন্যার পানিতে সড়ক তলিয়ে থাকায় বান্দরবান-চট্টগ্রাম সড়কে টানা তিন দিন ধরে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। রুমা, রোয়াংছড়ি ও আলীকদমের সড়ক থেকে পানি নেমে গেলেই কেবল যোগাযোগ স্বাভাবিক হবে বলে তিনি জানান। ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো যানবাহন চলাচলের উপযোগী করতে ৭ কোটি টাকা এবং দীর্ঘমেয়াদি টেকসই সংস্কারে আরও ৪০ কোটি টাকার প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী প্রতিপদ দেওয়ান জানিয়েছেন, জেলার ২১ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং এগুলো সংস্কারে প্রায় ৪০ কোটি টাকার প্রয়োজন হতে পারে।