কক্সবাজারের চকরিয়া পৌরসভার কোচপাড়া এলাকায় মাতামুহুরী নদীর ভাঙনে ১২টি বসতঘর সম্পূর্ণ নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। এছাড়া অন্তত ২৫টি বাড়ির উঠান ভাঙনের কবলে পড়ায় পরিবারগুলো চরম বিপাকে পড়েছে। অতি ভারী বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে গত কয়েকদিনে নদী তীব্র রূপ ধারণ করে। স্থানীয় বাসিন্দা কফিল উদ্দিন (৪৫) নামের এক ব্যক্তির একমাত্র ঘরটিও নদীতে হেলে পড়েছে। তিনি জানান, পরিবারে স্ত্রী ও চার সন্তান নিয়ে এখন তাদের থাকার ঠাঁই নেই। বহু কষ্টের টাকা জমিয়ে ঘরটি তৈরি করেছিলেন। এখন নদী তা গ্রাস করতে চলেছে। স্ত্রী জাহানারা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, করোনা মহামারির সময় স্বামী-স্ত্রী মিলে অনেক কষ্টে ঘর তুলেছিলেন। ২০২৩ সালের বন্যায় একটি কক্ষ নদীতে ধসে পড়েছিল। এবার পুরো ঘরটিই ধ্বংসের মুখে। বর্তমানে পরিবারটি পাশের একটি দোকানের বারান্দায় রাত কাটাচ্ছে। অন্যদিকে, একই এলাকার দিনমজুর মিনহাজ উদ্দিনের বসতঘরের দরজা পর্যন্ত ভাঙন চলে এসেছে। তার স্ত্রী শাহিন আক্তার অভিযোগ করে বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড ১০-১৫ দিন আগে কিছু বালুর বস্তা ফেললেও সেগুলো নদীর মাঝখানে ফেলা হয়েছে, ঘরের কিনারায় নয়। তিনি ভাঙন রোধে মেরিন ড্রাইভের মতো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। ফাতেমা বেগম (৪৫) বলেন, ২৭ বছর আগে বিয়ের পর এ এলাকায় আসার সময় মাতামুহুরী নদী বর্তমান অবস্থান থেকে অন্তত ২৫০ ফুট দূরে ছিল। নদীর গতিপথ বদলে পশ্চিম পাড় ভাঙতে ভাঙতে এখন লোকালয়ে ঢুকে পড়েছে। স্থানীয় কাউন্সিলর মুজিবুল হক জানান, গত ১০-১৫ বছরে সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসক ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা একাধিকবার এলাকা পরিদর্শন করেছেন। কিন্তু স্থায়ী কোনো ব্যবস্থা হয়নি। ফলে প্রতি বর্ষা মৌসুমে ৩৫-৪০টি পরিবার আতঙ্কে দিন কাটায়। এ প্রসঙ্গে কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নূরুল ইসলাম বলেন, ভাঙন রোধে একটি প্রকল্প প্রস্তুত করা হচ্ছে। জিও ব্যাগের বদলে কংক্রিটের ব্লক দেওয়ার বিষয়টি ভাবনায় আছে।