মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে এক উদ্বেগজনক প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। ক্রমবর্ধমান ভাড়ার বোঝা ও অর্থনৈতিক চাপের কারণে কলেজ ডিগ্রি নেই এমন পুরুষেরা কর্মক্ষেত্র থেকে সরে দাঁড়িয়ে পিতামাতার আশ্রয়ে ফিরে যাচ্ছেন। এই ঘটনা সামগ্রিকভাবে বিবাহের হারকেও নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করছে। সাম্প্রতিক এক গবেষণাপত্রে উঠে এসেছে, গত ছয় দশকে ভাড়া বেড়েছে ১৫০ শতাংশ, অথচ অ-কলেজ শিক্ষিত পুরুষদের মজুরি প্রায় একই রয়ে গেছে। স্বয়ংক্রিয়তা, বিশ্বায়ন ও উৎপাদন খাতের পতনকে এর কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
গ্যাব্রিয়েল পেনরোজ নামে একজন গবেষক মার্কিন আদমশুমারির তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখিয়েছেন, বাসস্থানের খরচ বৃদ্ধি এবং অ-কলেজ শিক্ষিত পুরুষদের কর্মসংস্থানের হার হ্রাসের মধ্যে সরাসরি সম্পর্ক বিদ্যমান। তাঁর গবেষণা অনুযায়ী, বর্তমানে ১৬ শতাংশ অ-কলেজ শিক্ষিত পুরুষ পিতামাতার বাড়িতে বসবাস করছেন, যা কলেজ শিক্ষিতদের তুলনায় দ্বিগুণ। ভাড়া ১০ শতাংশ বেড়ে গেলে এই গোষ্ঠীর পুরুষদের পিতামাতার কাছে ফেরার সম্ভাবনা ১ দশমিক ১ শতাংশ পয়েন্ট বেড়ে যায়।
গবেষণার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো পিতামাতার বাড়িতে বসবাসকারী পুরুষদের কর্মশক্তিতে সক্রিয় থাকার সম্ভাবনা ২০ শতাংশ পয়েন্ট কমে যায়। প্রাথমিক অনুমান বলছে, ভাড়া বৃদ্ধি অ-কলেজ শিক্ষিত পুরুষদের কর্মসংস্থানের পতনের প্রায় এক-তৃতীয়াংশের জন্য দায়ী। ফরচুনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পেনরোজ বলেন, "যুক্তরাষ্ট্রে অ-কলেজ শিক্ষিত পুরুষদের বিকল্প সীমিত করে দিচ্ছে বাস্তব অর্থনৈতিক শক্তি। আমরা যা দেখছি তা মূলত একটি ব্যবস্থার প্রতি যুক্তিসঙ্গত প্রতিক্রিয়া, যা তাদের দামের বাইরে ফেলে দিচ্ছে।"
আমেরিকান এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউটের (এএআই) বিশেষজ্ঞ স্কট উইনশিপ মনে করেন, বর্তমান প্রজন্মের অ-কলেজ শিক্ষিত পুরুষরা আগের প্রজন্মের তুলনায় বেশি অসুবিধার সম্মুখীন হচ্ছেন। "আজকের তরুণদের মধ্যে ৪০ শতাংশ স্নাতক ডিগ্রিধারী, তাই কলেজ ডিগ্রি না থাকা ব্যক্তিরা তুলনামূলকভাবে আরও পিছিয়ে পড়ছেন," তিনি মন্তব্য করেন। পাশাপাশি তিনি জোনিং আইন ও ভূমি ব্যবহারের বিধিনিষেধকে এই সংকটের মূল কারণ বলে উল্লেখ করেন।
বিবাহের হার হ্রাসকেও গবেষণায় একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে দেখা হয়েছে। উইনশিপের মতে, আগে বিবাহিত থাকায় অনেক যুবক উচ্চ ভাড়া সহ্য করতে পারতেন। কিন্তু বিবাহের হার কমে যাওয়ায় একক ব্যক্তিদের জন্য বাসস্থানের খরচ বহন করা আরও কঠিন হয়ে পড়েছে। "যদি আপনি একজন তরুণ পুরুষ হন, তাহলে ভবিষ্যতে পরিবারের দায়িত্ব নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা দেখতে পান না। ফলে কাজের পরিমাণ কমিয়ে পিতামাতার বাড়িতে থাকার প্রবণতা তৈরি হয়," তিনি যোগ করেন।
গবেষণার উপসংহারে বলা হয়েছে, আবাসন নীতি কেবল সাশ্রয়ীত্বের বিষয় নয় বরং শ্রমশক্তির অংশগ্রহণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নিউ ইয়র্ক ও সান ফ্রান্সিসকোর মতো উচ্চ ব্যয়বহুল শহরে আবাসন সস্তা করলে অ-কলেজ শিক্ষিত পুরুষদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়তে পারে। জোনিং ও নির্মাণ সীমাবদ্ধতা দূর করলে বাসস্থানের খরচ কমানোর পাশাপাশি শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণও বাড়বে বলে গবেষণায় পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।




