যশোরের কেশবপুর সরকারি ডিগ্রি কলেজ নানা সংকটের মধ্যে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটিতে শিক্ষক পদ শূন্য, অবকাঠামোগত ত্রুটি এবং শিক্ষার্থীদের আবাসন সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করেছে। ১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠিত কলেজটি ২০১৮ সালের আগস্ট মাসে সরকারি করা হলেও এখনো পূর্ণাঙ্গ সরকারি সুবিধা পায়নি। বর্তমানে কলেজটিতে মোট ৪ হাজার ২৫১ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত।
কলেজটির সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো শিক্ষকসংকট। কৃষিশিক্ষা বিভাগে দুটি শিক্ষক পদ থাকলেও একজনও নেই। ফলে ভূগোল বিভাগের শিক্ষককে কৃষিশিক্ষার পাঠদান করতে হচ্ছে। অন্যদিকে ইংরেজি বিভাগে তিনজন শিক্ষকের জায়গায় রয়েছেন মাত্র একজন। সেই একক শিক্ষককেই ৪ হাজারের বেশি শিক্ষার্থীর ক্লাস নিতে হচ্ছে। রসায়ন বিভাগের দুইটি পদ শূন্য থাকায় খণ্ডকালীন একজন শিক্ষকের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এ বিভাগে এইচএসসি ও স্নাতক মিলিয়ে প্রায় তিনশ শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত।
দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী নাজমুছ সাকিব জানান, কৃষিশিক্ষা বিষয়ে ভূগোলের শিক্ষক ক্লাস নিচ্ছেন, যার কারণে বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান অর্জনে তারা বঞ্চিত হচ্ছেন। ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক আবু নাসের বিপ্লব বলেন, একসঙ্গে বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীর ক্লাস নেওয়া সম্ভব হয় না। খণ্ডকালীন শিক্ষক থাকলেও তিনি স্থায়ী শিক্ষকের মতো দায়িত্বশীল নন। ভূগোল বিভাগের প্রধান এনায়েত হোসেন বলেন, তাঁকে ভূগোলের পাশাপাশি কৃষিশিক্ষা পড়ানোর জন্য রাত জেগে নিজে পড়ে তারপর ক্লাস নিতে হচ্ছে, যা তাঁর জন্য অতিরিক্ত চাপের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কলেজটিতে শ্রেণিকক্ষের অপ্রতুলতাও বড় সমস্যা। একটি পুরোনো ভবনেই সব ক্লাস নিতে হচ্ছে। বৃষ্টি হলেই ওই ভবনের ছাদ দিয়ে পানি চুঁইয়ে পড়ে এবং নিচতলায় পানি জমে যায়, ফলে শিক্ষার্থীরা ক্লাসে বসতে পারেন না। কলেজের ইতিহাস বিভাগের প্রধান আবদুল হান্নান বলেন, সরকারি হওয়ার পরও কোনো সরকারি সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে না। মন্ত্রণালয়ে অবকাঠামোর প্রয়োজনীয়তা জানানো হলেও এখনো কোনো ভবন নির্মাণ হয়নি। যশোরের শিক্ষা প্রকৌশলী ইলিয়াস আলী জানান, ছয়তলা ভবন নির্মাণের প্রস্তাব শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে এবং প্রস্তাব পাস হলে নির্মাণ শুরু হবে।
কলেজটিতে বর্তমানে ৬৫ জন শিক্ষক রয়েছেন, কিন্তু ঘাটতি রয়েছে ১১ জনের। তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির মাত্র পাঁচজন কর্মচারী আছেন। অস্থায়ী মাস্টার রোলে ১৬ জনকে বেতন দিয়ে প্রশাসনিক কাজ চালাতে হচ্ছে। কলেজে সম্মান শ্রেণিতে বাংলা, ইতিহাস, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, অর্থনীতি, হিসাববিজ্ঞান, ব্যবস্থাপনা ও ভূগোল—এই সাতটি বিষয় পড়ানো হয়। তবে কোনো বিভাগেই আধুনিক ল্যাবের সুবিধা নেই।
কলেজের অধ্যক্ষ আসাদুজ্জামান বলেন, প্রতিষ্ঠানটি নামেমাত্র সরকারি হলেও সরকারি কোনো সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছে না। নানা সংকটের বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে বারবার জানিয়েও কোনো প্রতিকার মিলছে না। নিজস্ব তহবিলের অভাবে খণ্ডকালীন শিক্ষক দিয়ে পাঠদান চালাতে হচ্ছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, নতুন জাতীয়করণ কলেজগুলোর শিক্ষক নিয়োগের নীতিমালা এখনো চূড়ান্ত না হওয়ায় শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় জটিলতা দেখা দিয়েছে।




