পাকিস্তানের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী আতিফ আসলামের ঢাকার কনসার্ট নির্বিঘ্নে সমাপ্ত হওয়ার ঠিক এক সপ্তাহ অতিবাহিত হতে না হতেই ভারতীয় শিল্পী অনুপম রায়ের অনুষ্ঠান কর্তৃপক্ষ কর্তৃক স্থগিত করায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে অসন্তোষ ও ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছে। গত ২৪ জুলাই রাজধানীর মাদানী অ্যাভিনিউয়ে আতিফ আসলামের কনসার্টে প্রায় দুই হাজার আসনের বিপরীতে ধারণক্ষমতার বহুগুণ দর্শকের সমাগম ঘটে। ঠিক সাত দিন পর, ১ আগস্ট বিমানবন্দর সংলগ্ন ইউনাইটেড কনভেনশন সেন্টারে অনুপম রায়ের ‘ওয়ান ট্রু কনসার্ট’ আয়োজনের পরিকল্পনা ছিল।

আয়োজক সংস্থা ট্রিপল টাইম কমিউনিকেশন জানায়, দ্বিতীয় দফার এ আয়োজনের জন্য সকল প্রকার বৈধ অনুমোদন ও সরকারি ছাড়পত্র সংগ্রহ করা হয়েছিল। কিন্তু মঞ্চ নির্ধারিত হওয়ার মাত্র দুই দিন অগ্রে ২৯ জুলাই সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে ‘অনিবার্য কারণ’ দর্শিয়ে অনুষ্ঠানটির অনুমতি প্রত্যাহার করা হয়। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রিতম দে জানান, তারা প্রথম দফায় প্রায় ৫৫ লাখ ও দ্বিতীয় দফায় আরও ৩২ লাখ টাকা ব্যয় করায় সর্বমোট প্রায় ৮৭ লাখ টাকা মূলধন ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। ভেন্যু ভাড়া বাবদই উভয় দফায় ৩২ লাখ টাকা পরিশোধিত হয়েছে। তদুপরি, শিল্পীর সম্মানী স্বরূপ আনুপম রায়কে প্রায় ২৪ লাখ টাকা দেওয়ার পাশাপাশি এনবিআরে ৮ লাখ টাকার উৎসে করও জমা প্রদান করা হয়েছিল।

প্রিতম দে আরও অভিযোগ করেন, রাত নয়টায় ফোন করে বাতিলের সংবাদ প্রদান করা হয়, কিন্তু ‘অনিবার্য কারণ’–এর পেছনের রহস্য আজও অজ্ঞাত রেেয়ে গেছে। এ অবস্থায় আয়োজক প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষতি যেমন হয়েছে, তেমনিই শিল্পী ও ব্যান্ড মাইলসের মতো অংশগ্রহণকারীদের জন্যও এটি ‘অনাকাঙ্ক্ষিত’ ঘটনা বলে মন্তব্য করেছেন ব্যান্ড সদস্য হামিন আহমেদ। তাঁর মতে, সরকার স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিলে এবং পশ্চাৎপট সম্পর্কিত কোনো রাজনৈতিক বা নির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করলে এ সংক্রান্ত জল্পনা-কল্পনা ও বিতর্ক সহজেই নিরসন হতো।

উল্লেখ্য, এর আগে ২৬ জুন একই কনসার্ট বাতিলের পর ২০ জুলাই মন্ত্রণালয়ের পুনরায় অনুমতি মেলে এবং নতুন করে টিকিট বিক্রয় শুরু হয়। ইউনাইটেড কনভেনশন সেন্টারের ২,৫০০ আসনের বিপরীতে ১,৬০০ টিকিট নগদ বিক্রিসহ পৃষ্ঠপোষক ও সৌজন্য টিকিট বণ্টিত হয়। ঢাকার বাইরে চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, যশোর ও টাঙ্গাইল থেকেও দর্শক টিকিট ক্রয় করায়। উত্তরার বাসিন্দা ও দর্শক মোস্তাফিজুর রহমান, যিনি আতিফ ও অনুপম—উভয় কনসার্টের টিকিট কিনেছিলেন, তার মতে এমতাবস্থায় জনমনে সংশয়ের উদয় হওয়াটাই স্বাভাবিক। নিয়মিত কনসার্ট-গামী সূচনা তাসনিম দীর্ঘ সময় পর পরিকল্পনা করেও শেষ মুহূর্তের বাতিলে হতাশার ইঙ্গিত দেন।

কলকাতায় শিল্পীর প্রতিনিধি রানা সিংহ রায় সংবাদমাধ্যমের কাছে জানান, দ্বিতীয়বারের মতো পণ্ড হওয়ার ঘটনা তাদের জন্যও অবোধ্য; ভিসা, বিমান টিকিট ইত্যাদির সব প্রস্তুতি চূড়ান্ত থাকলেও সরকারি নিষেধাজ্ঞাই চূড়ান্ত প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। নোটিশে স্বাক্ষরকারী সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব মহুয়া আফরোজ নিজেকে ‘জুনিয়র মোস্ট’ কর্মকর্তা আখ্যা দিয়ে এ বিষয়ে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সচিবকেই মন্তব্যের দায়িত্বশীল হিসেবে চিহ্নিত করেন। তবে গণমাধ্যমের বহুল প্রচেষ্টা সত্ত্বেও শনিবার রাত পর্যন্ত উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। আয়োজক নিশ্চিত করেছেন, টিকিটের অর্থ ফেরৎ প্রক্রিয়া সোমবার থেকে শুরু হবে।