শুধু ক্রিকেট কিংবদন্তির কন্যা হিসেবেই নয়, বর্তমানে নিজের যোগ্যতায় ফ্যাশন ইনফ্লুয়েন্সার, জনপ্রিয় সামাজিক মাধ্যমে ব্যক্তিত্ব এবং জনহিতকর কাজের সাথে জড়িত এক স্বতন্ত্র পাবলিক ফিগার হিসেবে নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন সারা টেন্ডুলকার। সম্প্রতি 'ভোগ ইন্ডিয়া'র ডিজিটাল প্রচ্ছদে দেখা গেছে তাঁকে।১৯৯৭ সালের ১২ অক্টোবর শচীন ও অঞ্জলি টেন্ডুলকারের বড় সন্তান হিসেবে জন্ম সারার। তাঁর ছোট ভাই অর্জুন পেশাদার ক্রিকেটার। উচ্চশিক্ষার পথে যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন থেকে বায়োমেডিক্যাল সায়েন্সে স্নাতক সম্পন্ন করেন তিনি। এরপর ক্লিনিক্যাল অ্যান্ড পাবলিক হেলথ নিউট্রিশন বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন অসাধারণ ফলাফলের মাধ্যমে।২০২৪ সালে বাবার প্রতিষ্ঠান শচীন টেন্ডুলকার ফাউন্ডেশনের পরিচালক পদে যোগ দেন সারা। পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর মধ্যে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও খেলাধুলা ক্ষেত্রে কাজ করে এই ফাউন্ডেশন। মডেলিং ও ফ্যাশন জগতের সাথেও যুক্ত রয়েছেন ২৮ বছর বয়সী সারা। দক্ষিণ কোরিয়ার বিখ্যাত স্কিনকেয়ার ব্র্যান্ড 'লানেইজ'-এর শুভেচ্ছাদূত হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।গত কয়েক বছর ধরেই ভারতীয় ক্রিকেটার শুভমান গিলের সাথে সারার প্রেমের গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। বয়সে দুই বছরের ছোট শুভমানের সাথে তাঁকে বিভিন্ন হোটেল, রেস্তোরাঁয় একসাথে দেখা গেছে। ২০২৬ সালে লন্ডনে উইম্বলডন টেনিস টুর্নামেন্টের সময় সারার মা অঞ্জলি টেন্ডুলকারের সাথেও শুভমানকে দেখা যায়। তবে এই প্রেমের সম্পর্ক নিয়ে এখনো মুখ খোলেননি কেউই।মিনিমাল, এলিগ্যান্ট ও ফেমিনিন ফ্যাশনের জন্য সবসময় প্রশংসিত সারা। ভারতীয় ঐতিহ্যবাহী পোশাককে আধুনিক ধাঁচে উপস্থাপন করেন তিনি। শাড়ি, লেহেঙ্গা কিংবা অন্যান্য এথনিক ওয়্যারে তাঁকে বারবার দেখা গেছে। মেকআপেও তিনি বেছে নেন সফট ও ন্যাচারাল লুক। 'এফোর্টলেস লুক'ই তাঁর ফ্যাশনের প্রধান বৈশিষ্ট্য।ভোগকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জনসমক্ষে নিজের উপস্থিতি নিয়ে সামাজিক প্রত্যাশার চাপের কথাও উল্লেখ করেছেন সারা। তিনি স্পষ্ট জানান, পেশাদার অভিনেত্রী হিসেবে বলিউডে ক্যারিয়ার গড়ার কোনও আগ্রহ তাঁর নেই।ভবিষ্যৎ জীবনসঙ্গী প্রসঙ্গে সারা বলেন, রোমান্টিক সোলমেটের ধারণা যে বাস্তব ও সত্যি, সেটিতে তিনি বিশ্বাস করতে চান। ছোটবেলায় 'টেন্ডুলকার' পদবির গুরুত্ব তিনি অনুভব করেননি বলে জানান। মা-বাবা তাঁকে স্বাভাবিক শৈশব দেওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছিলেন। একদিন স্কুলে সহপাঠীরা যখন জানায় টেন্ডুলকার সেঞ্চুরি করেছেন, তখন সারা হাত তুলে বলেন, 'আমার বাবার নামও তো একই!' তখন তিনি বুঝতে পারেননি, ক্রিকেট কিংবদন্তি টেন্ডুলকারই তাঁর 'বাড়ির বাবা'।ছোটবেলায় বড় করে বিয়ের স্বপ্ন দেখতেন সারা, তখন তিনি নিশ্চিত ছিলেন প্যাস্টেল রঙের কনে হবেন। তবে এখন তাঁর চিন্তাধারা বদলেছে। ছোট পরিসরে বিয়ের প্রতি ঝোঁক বেড়েছে তাঁর এবং বিয়ের পোশাক হিসেবে লাল রঙের কথা ভাবছেন। তবে তুলা রাশির মানুষ হিসেবে তিনি ভীষণ দ্বিধাগ্রস্ত, তাই হয়তো সবুজও বেছে নিতে পারেন বলে জানান।ফ্যাশন নিয়ে তাঁর সিদ্ধান্ত যেকোনো মুহূর্তে বদলাতে পারে, কিন্তু কাকে বিয়ে করবেন এবং কী ধরনের সম্পর্ক চান তা নিয়ে তিনি অনেক স্পষ্ট। তাঁর মতে, 'কুছ কুছ হোতা হ্যায়' সিনেমার মূল বক্তব্যই সত্যি। 'পেয়ার দোস্তি হ্যায়'- এই বিশ্বাস থেকে তিনি নিজের সেরা বন্ধুকেই জীবনসঙ্গী হিসেবে বেছে নিতে চান।জেন-জি প্রজন্ম দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্কে অনাগ্রহী, এমন ধারণা নন সারা। তাঁর মতে, এই প্রজন্ম বিয়েকে এতটাই গুরুত্ব দেয় যে সম্পর্ক ঠিক না চললে তা থেকে বেরিয়ে আসতেও দ্বিধা করে না। তিনি বলেন, অনেকে বিয়ের বাগদান করেছেন, কিন্তু প্রস্তুতির সময় নিজেদের ভুল বুঝতে পেরে বিয়ে থেকে সরে এসেছেন। এমন পরিস্থিতিতে বিয়ের পর বড় সমস্যায় জড়ানোর চেয়ে আগে সরে আসাই ভালো বলে মনে করেন তিনি। আগের প্রজন্মে এমন সৎ ও সাহসী দূরদর্শিতা খুব কমই দেখা গেছে বলে উল্লেখ করেন সারা।
ভোগ ইন্ডিয়ার প্রচ্ছদে সারা টেন্ডুলকার, নিজের সম্পর্কে যা জানালেন
ভোগ ইন্ডিয়ার ডিজিটাল প্রচ্ছদে দেখা দিয়েছেন শচীন টেন্ডুলকারের কন্যা সারা টেন্ডুলকার। ফ্যাশন, পড়াশোনা ও ব্যক্তিগত জীবনের নানা প্রসঙ্গে তিনি খোলামেলা কথা বলেছেন। বলিউডে ক্যারিয়ার গড়ার ইচ্ছে নেই জানিয়ে ভবিষ্যৎ জীবনসঙ্গী ও বিয়ে নিয়ে নিজের ভাবনাও প্রকাশ করেছেন তিনি।




