বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম ও জনপ্রিয় বার্ষিক গণদৌড় প্রতিযোগিতা সিটি টু সার্ফ এবারও সিডনিতে অনুষ্ঠিত হলো। হাইড পার্ক থেকে শুরু হয়ে বন্ডাই সৈকতে গিয়ে এই ১৪ কিলোমিটারের দৌড় শেষ হয়। ১৯৭১ সালে প্রথম শুরু হওয়া এই প্রতিযোগিতায় প্রতি বছর লাখো মানুষ অংশ নেন। গত ৯ আগস্ট, ২০২৬ রোববার ছিল এবারের আয়োজনের দিন। অরেঞ্জ রঙের এই বিভাগটি মূলত দৌড় নয়, বরং এটি প্রাতর্ভ্রমণের মতোই একটি আনন্দভ্রমণ। তাই এই বিভাগে প্রায় সব বয়সের মানুষের অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। দাদা-দাদি নাতি-নাতনিকে নিয়ে, বাবা-মা ছেলে-মেয়েকে নিয়ে, আর উঠতি বয়সীরা বন্ধুবান্ধব মিলে দল বেঁধে হাজির হয়েছিলেন। প্রতিযোগিতাটির বিশেষত্ব হলো, অংশগ্রহণকারীদের গতির ওপর ভিত্তি করে এটি বিভিন্ন রঙের বিভাগে ভাগ করা হয়। টিকিট অনলাইনে ছাড়া মাত্রই শেষ হয়ে যায় বলে আগে থেকেই টিকিট কেটে রেখেছিলেন লেখক। ট্রেনে চড়ে সেন্ট জেমস স্টেশনে নেমে ম্যাকুয়ারি স্ট্রিট হয়ে শুরুর লাইনের কাছে পৌঁছানো হয়। সেখানে তখন লোকজনের ভিড়। অপেক্ষারত অবস্থায় পরিচয় হয় আশির কোঠা পেরোনো এক দম্পতির সঙ্গে, যাঁরা বহুদিন পর আবার অংশ নিতে এসে খুবই উচ্ছ্বসিত। অরেঞ্জ বিভাগের শুরুর আগে ইয়েলো বিভাগের প্রতিযোগীরা রওনা দেন। ডিজে অনুষ্ঠান চলাকালে অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় ও তাদের পরিচয় জানার চেষ্টা করেন। ইয়েলো বিভাগ চলে যাওয়ার পর অরেঞ্জ বিভাগের জন্য পথ খুলে দেওয়া হয়। কম বয়সীরা সঙ্গে সঙ্গে দৌড় শুরু করলেও লেখক সহযাত্রীদের শক্তি সঞ্চয়ের পরামর্শ দিয়ে নিজে এগিয়ে যান। পথে পথে প্রতিযোগীদের উজ্জীবিত করতে বিভিন্ন জাতি ও সংস্কৃতির মানুষ নিজ নিজ সংগীত ও নৃত্য পরিবেশন করছিলেন। কিছুদূর পরপরই ছিল পানি পান করার ব্যবস্থা। অনেক বাড়ির সামনে বিনা মূল্যে খাবার বিতরণ করা হচ্ছিল, কেউ কেউ আবার কুয়াশার মতো পানি ছিটিয়ে গরম থেকে স্বস্তি দিচ্ছিলেন। ছোট ছোট শিশুরা লেমনেড বা পানীয় বিক্রি করে বিভিন্ন দাতব্য কাজের জন্য তহবিল সংগ্রহ করছিল। পথে দেখা হয় ৯৩ বছর বয়সী এক নারীর সঙ্গে, যিনি দুই হাতে লাঠি নিয়ে হাঁটছিলেন। লেখকের মন্তব্যে তিনি হেসে ওঠেন। ৫০ বছর ধরে অংশ নেওয়া এক ভদ্রলোক বলেন, 'বয়স শুধু একটা সংখ্যা'। এক নারীর জামার পেছনে লেখা ছিল 'আমি দৌড়াচ্ছি আমার বাবার জন্য'। সেই সঙ্গে বাবার ছবিও প্রিন্ট করা ছিল। এক বাড়ির শিশুরা ট্রেতে করে পানি ও আলুর চিপস এগিয়ে দিচ্ছিল। বৃদ্ধাশ্রমের বাসিন্দারা আঙিনায় বসে দৌড় উপভোগ করছিলেন। পথে উল্টো দিকে দৌড়াতে দেখা এক ভদ্রলোক জানান, তিনি তাঁর স্ত্রীকে হারিয়ে ফেলেছেন। পরে এক নারী জানান, তিনিও পেছনে তাকিয়ে স্বামীকে খুঁজছেন। কয়েকজন নারী শাড়ি পরে অংশ নিয়েছিলেন। একটি পরিবারের সবাই সুপারম্যান ও সুপার গার্লের পোশাক পরে এসেছিল। মারিও ব্রাদার্সের পোশাক পরা দুইজনের সঙ্গে ছবি তোলেন লেখক। শেষে মেডেল নিয়ে বাসার উদ্দেশে রওনা দেন।