শেরপুর শহরের যান্ত্রিকতা আর শিল্পকারখানার ভিড় থেকে দূরে কিছুটা প্রশান্তির খোঁজে স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রধান গন্তব্য হয়ে উঠেছে খানপুর ইউনিয়নের বোয়ালকান্দি সেতু এলাকা। বিশেষ করে সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতে, শুক্রবার ও শনিবার বিকেলে এখানে মানুষের ঢল নামে। শেরপুর-কাজীপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে অবস্থিত স্থানীয়দের প্রিয় ‘পারনী খাল’ বর্তমানে বর্ষার পানিতে ভরপুর, যা দর্শনার্থীদের জন্য হয়ে উঠেছে প্রধান আকর্ষণ।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, শেরপুর শহরে পর্যাপ্ত বিনোদনকেন্দ্রের অভাব রয়েছে। ফলে প্রাকৃতিক পরিবেশে সময় কাটাতে তারা এই খালের পাড়ে চলে আসেন। কেউ নৌকায় ঘুরে বেড়ান, কেউ খালের তীরের স্নিগ্ধতায় গল্প করেন, আবার কেউ মুঠোফোনে প্রকৃতির ছবি তোলেন। শেরপুরের পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী ধুনট উপজেলার মানুষও এখানে ভিড় জমাচ্ছেন। সাইফুল ইসলাম ও লোকমান হোসেনের মতো অনেকেই জানান, শহরের বাইরে একটু স্বস্তির খোঁজে তারা এই নৌভ্রমণে অংশ নেন। একই অনুভূতি প্রকাশ করেছেন শহরের বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন, রকি হোসেন ও আঞ্জুয়ারা খাতুন, যারা পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ছুটির দিনগুলো এখানে কাটাতে পছন্দ করেন।
প্রকৃতির এই সহজ আকর্ষণ কেবল দর্শনার্থীদেরই টানছে না, বরং স্থানীয় ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য নতুন আয়ের পথ খুলে দিয়েছে। বোয়ালকান্দি সেতুর দুই পাশে প্রায় এক কিলোমিটার এলাকা জুড়ে গড়ে উঠেছে প্রায় ১০টি অস্থায়ী দোকান। এখানে আখের রস, ফুচকা, মাঠা, বাদাম ও ছোলার মতো মুখরোচক খাবারের সমারোহ থাকে। দোকানি এরশাদ আলী জানান, সপ্তাহের অন্যান্য দিন বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি করলেও ছুটির দিনে এখানে এসে দিনে দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা আয় করেন তিনি। মাঠা বিক্রেতা মো. মিলনও মনে করেন, মানুষের এই আনাগোনা ছোট ব্যবসায়ীদের জন্য আশীর্বাদ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয় গোপালপুর গ্রামের resident যতীন্দ্রনাথ রায়ের মতে, সব ঋতুতেই এখানে দর্শনার্থী আসালেও বর্ষার পরে ভিড় সবচেয়ে বেশি থাকে, যা তিনি গত তিন বছর ধরে লক্ষ্য করছেন। অন্যদিকে, খানপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পিয়ার উদ্দিন জানান, সরকারি উদ্যোগে কোনো বিনোদনকেন্দ্র না থাকায় মানুষ এই খোলা পরিবেশের প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, এই এলাকার পাঁচ কিলোমিটারের মধ্যে কোনো শিল্পকারখানা না থাকায় পরিবেশটিpollution-মুক্ত এবং আকর্ষণীয়। শেষ বিকেলের আলোয় খালের শান্ত পানিতে নৌকার চলাচল আর সেতুর ওপর দাঁড়িয়ে মানুষের আড্ডা যেন প্রকৃতির নিজস্ব এক বিনোদন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে বোয়ালকান্দি।




