নেত্রকোনার মদন উপজেলায় একজন ব্যক্তির জানাজার পর বাড়িতে প্রত্যাবর্তনের সময় দুই প্রতিপক্ষের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। রোববার (২৬ জুলাই) দুপুরে উপজেলার নায়েকপুর ইউনিয়নের আলমশ্রী গ্রামে এ সহিংসতার জেরে অন্তত ৩৮ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এছাড়াও সংঘর্ষস্থলের আশপাশে থাকা বেশ কয়েকটি ঘরবাড়ি ভাঙচুরের শিকার হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশের বরাতে জানা যায়, আলমশ্রী গ্রামের ইউপি সদস্য ফারুক মিয়ার সঙ্গে একই গ্রামের সাবেক সদস্য বেকুল মিয়ার দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। সম্প্রতি ফারুকের খালাতো ভাই জামাল মিয়া অটোরিকশা চালিয়ে স্থানীয় বাজারে যাওয়ার পথে বেবুল ও তার সহযোগী কামরুল হাসানের সমর্থকরা তার পথ রোধ করে। এ সময় ফারুকের মামাতো ভাই হৃদয় মিয়া জামালের পক্ষ নিতে গেলে তাকে প্রহৃত করা হয়। বিষয়টি নিয়ে গ্রামে একাধিক সালিশি বৈঠক হলেও কোনো মীমাংসা হয়নি। এই ঘটনার পর থেকেই ফারুক মিয়ার লোকজনেরা আলমশ্রী বাজারে যাওয়া-আসা বন্ধ করে দিয়েছিল।
গত শুক্রবার ফারুকের এক ভাতিজা ঢাকায় বিদ্যুতায়িত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। আজ দুপুরে ওই মৃতের গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হয়। দাফন পরবর্তী বাড়ি ফেরার পথেই পূর্ববিরোধের জি নিয়ে ফারুক মিয়া এবং বেবুল ও কামরুলের গ্রুপের মধ্যে এ সংঘর্ষ বাধে। গুরুতর আহত অবস্থায় এমদাদুল হক (৩৭), সাইফুল ইসলাম (৩০), সজীব মিয়া (২৫), প্রান্ত মিয়া (৩০), আবুল কাশেম (৩৮), মুনায়েম (৩০), রামিন (১৩), সিফাত (১৫), রোশনারা আক্তার (৩৫), রাকিবা আক্তার (৪০) এবং নুরজাহান আক্তার (৭৮)-কে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকি আহতরা মদন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন।
বেবুল মিয়া অভিযোগ করে বলেন, ‘ফারুক মেম্বার হওয়ার পর থেকেই নিজের একচ্ছত্র আধিপত্য ধরে রাখতে চায়। ভবিষ্যত নির্বাচনে কেউ প্রার্থী হতে না পারে সেটা নিশ্চিত করতেই সে মানুষকে পিটিয়ে থাকে। আজকের ঘটনার সূত্রপাতও তখনই যখন দাফন শেষে ফেরার পথে আমাদের লোক সাত্তার মিয়াকে রাস্তায় আটকে দেওয়া হয়।’ বিপরীতে ফারুক মিয়ার দাবি, ‘এটি একটি পূর্বপরিকল্পিত আক্রমণ। আমাদের বাড়ির সামনের হাওর থেকে প্রতি বছর কোটি টাকার মাছ বিক্রি হয়। তাদের উদ্দেশ্য আমাদের গ্রামছাড়া করে সেই হাওর দখল করে মোটা অর্থ উপার্জন করা। বেকুল মিয়া ও কামরুল হাসান পূর্বপরিকল্পিত ভাবেই এই হামলা চালিয়েছে।’
মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালাহউদ্দিন করিম জানান, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করেই দুই পক্ষের এই মারামারি ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশের ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে বর্তমান পরিস্থিতি শান্ত আছে। এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেনি। অভিযোগ পাওয়া গেলে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




