জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) উৎসে কর আদায় ও তদারকি জোরদার করার উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)। সংস্থাটি মনে করে, আয়কর আইনের আওতায় বাণিজ্যিক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কর জমা, যাচাই ও পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হলে সরকারের রাজস্ব আয় উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে। তবে একইসঙ্গে উদ্বেগ প্রকাশ করে ডিসিসিআই বলেছে, ইতিমধ্যেই কর ব্যবস্থাপনায় নিয়ম মেনে চলা প্রতিষ্ঠানগুলো যেন অতিরিক্ত হয়রানির শিকার না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখা জরুরি।

ডিসিসিআই আরও জানিয়েছে, যেসব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এখনো পুরোপুরি কর আইনের সঙ্গে নিজেদের খাপ খাইয়ে নিতে পারেনি, তাদের সেই সুযোগ দেওয়ার জন্য এনবিআরের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। সংগঠনটির মতে, সরকারের রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জন ও করজাল সম্প্রসারণে দেশের কর ব্যবস্থায় ডিজিটালাইজেশন ও অটোমেশনের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এর মাধ্যমেই বেসরকারি খাতের অনাকাঙ্ক্ষিত ভোগান্তি অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে মনে করে তারা।

অপরদিকে, গত রোববার এনবিআর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে কর কর্মকর্তাদের জন্য পাঁচটি নির্দেশনা প্রকাশ করে। আয়কর আইন, ২০২৩-এর ১৪৭ ধারা অনুযায়ী, কর কর্মকর্তারা এখন যেকোনো বাণিজ্যিক বা অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়, ব্যবসাকেন্দ্র বা প্রাঙ্গণে বিনা বাধায় প্রবেশ ও সরেজমিন পরিদর্শন করতে পারবেন। তারা প্রতিষ্ঠানের হিসাবের খাতা, ভাউচার, ব্যাংক বিবরণী, রসিদ ও অন্যান্য আর্থিক নথিপত্র পরীক্ষা ও তলব করতে পারবেন।

এছাড়া, প্রতিষ্ঠানের কম্পিউটার সিস্টেম, ক্লাউড সার্ভার বা ইলেকট্রনিক ডিভাইসে সংরক্ষিত তথ্য পরীক্ষা করার এবং প্রয়োজনে পাসওয়ার্ড বা এনক্রিপশন ভেঙে সেখানে প্রবেশের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে কর কর্মকর্তাদের। উৎসে কর্তিত করের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য প্রয়োজনীয় নথি, ইলেকট্রনিক রেকর্ড বা ডিভাইস সাময়িকভাবে জব্দ ও নিজস্ব হেফাজতে রাখতে পারবেন তারা। পাশাপাশি, যেকোনো নথি, ইমেজ বা অ্যাকাউন্টের কপি সংগ্রহ করে তাতে শনাক্তকরণ চিহ্ন বা সিলমোহর দেওয়ারও অনুমতি রয়েছে।

এনবিআর জানিয়েছে, রাজস্ব আহরণের এই কার্যক্রমে কোনো বাধা বা অসহযোগিতা করলে ১৪৭(২) ধারা অনুযায়ী জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।