সাপ্তাহিক ছুটির সকালে বগুড়া ও সিলেটের মহাসড়কে পৃথক দুই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল ১৫ জনের। হতাহতের এই মিছিলে যোগ দিয়েছেন আরও ৩৪ জন। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, ঘটনা দুটি ঘটে আজ শুক্রবার সকাল সাড়ে ছয়টা থেকে সাড়ে সাতটার মধ্যে।
প্রথম দুর্ঘটনাটি ঘটে বগুড়া সদর উপজেলার এরুলিয়া সিল্কিবান্দা এলাকার বগুড়া-নওগাঁ মহাসড়কে। পুলিশ জানিয়েছে, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা শাহ ফতেহ আলী পরিবহনের একটি বাস নওগাঁর দিকে যাচ্ছিল। সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে ওই স্থানে পৌঁছে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে বিদ্যুতের একটি খুঁটিতে সজোরে ধাক্কা দেয়। এ সময় সেখানকার শ্রমজীবী মানুষজন, যারা দৈনন্দিন কাজের সন্ধানে জড়ো হয়েছিলেন, তারা বাসটির নিচে চাপা পড়েন।
ভয়াবহ এই চাপায় ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তিনজনের। স্থানীয়রা এবং পুলিশ তৎক্ষণাৎ উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে আহতদের বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা আরও চারজনকে মৃত ঘোষণা করেন। বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইব্রাহীম আলী নিহত ও আহতদের পরিচয় নিশ্চিত করে জানান, তারা প্রত্যেকেই স্থানীয় অধিবাসী ও শ্রমজীবী মানুষ। নিহতদের মধ্যে ছয়জনের পরিচয় শনাক্ত করেছে পুলিশ। তারা হলেন গাইবান্ধা জেলার আমিরুল ইসলাম, নূর আলম, আবদুস ছামাদ ও বেলাল, এবং জয়পুরহাটের তাজমুল ও ফয়জার। এছাড়াও এই ঘটনায় আরও ১০ জন শ্রমিক বিভিন্ন মাত্রার জখম নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
একই সময়ে দেশের পূর্বাঞ্চলেও ঘটে আরেকটি রক্তাক্ত দৃশ্য। সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার কাশিকাপন এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে দুটি যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি ভয়াবহ সংঘর্ষ হয়। সকাল পৌনে আটটার দিকে এই ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে ওসমানীনগর থানার ওসি গোলাম মোস্তফা জানান, সিলেটগামী বেঙ্গল পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে ঢাকাগামী ইউনিক পরিবহনের আরেকটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ বাধে। প্রচণ্ড গতির ধাক্কায় ইউনিকের বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পার্শ্ববর্তী একটি খাদে উল্টে পড়ে। এই দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই আটজনের মৃত্যু হয়। হতাহতদের নাম-পরিচয় ঘটনাস্থলেই নিশ্চিত করা যায়নি বলে পুলিশ জানায়।
সংঘর্ষের পর উদ্ধারকাজ চালিয়ে ২৫ জনেরও বেশি আহতকে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য প্রেরণ করা হয়। এই দুর্ঘটনায় বেঁচে ফেরা কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরের বাসিন্দা ফারুক মিয়া (৫২) হাসপাতালের শয্যা থেকে নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানান। তিনি ও তার চার বন্ধু হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারতের জন্য সিলেট ভ্রমণ করেছিলেন। তাদের মধ্যে দুজন বিমানযোগে ফিরে গেলেও, ফারুক ও তার অপর দুই বন্ধু ইউনিকের বাসে ঢাকার পথে রওনা দেন। ফারুক জানান, তিনি বাসে ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় প্রচণ্ড এক বিকট আওয়াজের মাধ্যমে দুর্ঘটনার বিষয়টি উপলব্ধি করেন। আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হয়, তবে পেশায় নির্মাণ ঠিকাদার তার বন্ধু সাইফুল ইসলাম এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিহত হন। পুলিশ এখন ঘটনা দুটির ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে।



