বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ঝালকাঠি-১ আসনের সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় ধর্মবিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম জামাল তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট প্রকাশ করেছেন, যাতে নিজ দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ‘খাইখাই’ প্রবণতা বন্ধ করার কঠোর আহ্বান জানানো হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে পোস্টটি দেওয়া হয়, যেখানে তিনি সরাসরি বলেন, ‘ঝালকাঠির বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের খাই খাই বন্ধ করার জন্য অনুরোধ করছি। ছয় মাসে অনেক খেয়েছেন।’
পোস্টে রফিকুল ইসলাম জামাল আরও অভিযোগ করেন, দলের কিছু নেতাকর্মী আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের পাহারা, তাদের পক্ষে আইনি সহায়তা, তাদের বাড়িঘর রক্ষা এবং ঠিকাদারি কাজের বিনিময়ে অর্থ উপার্জন করছেন। তিনি লিখেছেন, ‘আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের পাহারার বিনিময় খেয়েছেন, আওয়ামীদের পক্ষে ওকালতি করে খেয়েছেন, আওয়ামীদের বাড়িঘর পাহারা দিয়ে খেয়েছেন, ঠিকাদারি পাহারা দিয়ে খেয়েছেন। শেষ পর্যন্ত টাকার বিনিময়ে আওয়ামীদের দলে যোগদান করিয়েও খাচ্ছেন। মনে হচ্ছে আপনারা দলটাকেই খেয়ে ফেলবেন।’
বিএনপির এই সংসদ সদস্য জুলাই বিপ্লবের শহীদদের প্রতি অবজ্ঞা করার কথাও তুলে ধরেন। তিনি লেখেন, ‘লজ্জা থাকা উচিত। যাদের রক্তের বিনিময়ে আপনাদের এত খাওয়ার সুযোগ হয়েছে, সেই ৩৬ জুলাই শহীদদের জন্য ৫ আগস্ট একটু দোয়া-মোনাজাত করতে পারেননি। শুধু নেতা হতে পদের আকাঙ্ক্ষায় থাকলে দ্রুতই দল থেকে ঝরে পড়বেন।’
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রফিকুল ইসলাম জামালের এই মন্তব্য কীর্তিপাশার ঘটনা এবং দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে নৈতিক অবক্ষয়ের প্রতিবাদেই এসেছে। জেলা বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, গণঅভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় কয়েকজন নেতার ঠিকাদারি কাজে বিএনপি ও যুবদলের পদধারী কয়েকজন নেতা জড়িত রয়েছেন। এছাড়া ঝালকাঠির আদালতে বিভিন্ন রাজনৈতিক মামলায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের পক্ষে মামলা পরিচালনা করছেন বিএনপিপন্থী আইনজীবী। এসব বিষয়ে ক্ষুব্ধ হয়েই রফিকুল ইসলাম জামাল এই পোস্ট দিয়েছেন বলে ধারণা করছেন অনেকে।
সম্প্রতি ঝালকাঠি জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সদস্যসচিব শাহাদাৎ হোসেনের পাঠানো ৪১৭টি প্রকল্প স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে। অভিযোগ রয়েছে, ওই প্রকল্পগুলো ঝালকাঠির দুই সংসদ সদস্যের সঙ্গে কোনো সমন্বয় না করেই অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছিল। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ঝালকাঠি-১ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম জামাল এবং ঝালকাঠি-২ আসনের সংসদ সদস্য ইসরাত সুলতানা এলেন প্রকল্প বাতিলের জন্য মন্ত্রণালয়ে ডিও লেটার দেন। জেলা বিএনপির সদস্যসচিব শাহাদাৎ হোসেনের সঙ্গে রফিকুল ইসলাম জামালের আগে থেকেই দ্বন্দ্ব বিদ্যমান।
এ বিষয়ে রফিকুল ইসলাম জামাল বলেন, ‘নেতা-কর্মীদের নৈতিক অবক্ষয় ও দলের প্রতি আনুগত্য অক্ষুণ্ন রাখতে অনেকটা মনে কষ্ট নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই মন্তব্য করেছি। আশা করি নেতা-কর্মীরা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শকে ধারণ করে দলকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন।’



