নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার এক অদম্য এইচএসসি পরীক্ষার্থী সকালে হাসপাতালে একটি কন্যা সন্তানের জন্ম দিয়ে মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানেই দুপুরে পরীক্ষার হলে উপস্থিত হয়ে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) অনুষ্ঠিত সমাজবিজ্ঞান প্রথম পত্রের পরীক্ষায় সৈয়দপুর মহিলা মহাবিদ্যালয় কেন্দ্রে অংশ নেন তিনি। ওই শিক্ষার্থীর নাম আন্নাবিউল উম্মি, যিনি সৈয়দপুর শহরের গোলাহাট এলাকার আজাহার আলীর কন্যা এবং কয়া গোলাহাট স্কুল অ্যান্ড কলেজের মানবিক বিভাগের ছাত্রী।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, নির্ধারিত পরীক্ষার দিন সকাল বেলায় হঠাৎ করেই আন্নাবিউলের প্রসব যন্ত্রণা শুরু হয়। পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করেন, যেখানে তিনি একটি কন্যা সন্তানের মা হন। শারীরিক দুর্বলতা ও অসুবিধা থাকা সত্ত্বেও পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার অদম্য ইচ্ছা ব্যক্ত করায় চিকিৎসকেরাও আশ্চর্য হন। চিকিৎসকদের প্রাথমিক সেবা ও পরামর্শ শেষে বিষয়টি কেন্দ্র কর্তৃপক্ষকে তাৎক্ষণিকভাবে জানানো হলে তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেন।
পরে দুপুরের নির্ধারিত সময়ে কেন্দ্রে পৌঁছে সমাজবিজ্ঞান প্রথম পত্রের পরীক্ষায় অংশ নেন আন্নাবিউল উলুমি। তার এই সাহসী পদক্ষেপ এবং শিক্ষার প্রতি অবিচলতার গল্প ইতিমধ্যে সৈয়দপুরজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। শারীরিক কষ্টের মাত্রা সম্পর্কে আন্নাবিউল বলেন, "অনেক কষ্ট হচ্ছিল, তবু পরীক্ষা মিস করতে চাইনি। এক বছর চি যে পরিশ্রম করেছি, সেটি যাতে নষ্ট না হয়, সেই কারণেই এমন কঠিন অবস্থায় কেন্দ্রে এসেছি।" তিনি তার ও তার সদ্যোজাত কন্যা সন্তানের জন্য সকলের কাছে দোয়া প্রার্থনা করেন।
সৈয়দপুর মহিলা মহাবিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও কেন্দ্র সচিব শাহীদ শাহাব বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, ওইদিন সমাজবিজ্ঞান প্রথম পত্রের পরীক্ষা চলাকালে শিক্ষার্থীর বিশেষ পরিস্থিতি বিবেচনায় তাকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সকল প্রকার সুবিধা প্রদান করা হয়। তিনি আরও যোগ করেন, পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার পর কেন্দ্রের পক্ষ থেকে নবজাতক শিশুটির সুস্বাস্থ্য কামনা করে একটি উপহারও তুলে দেওয়া হয়।


