লন্ডন শহরে বড় হয়ে ওঠা একজন মানুষের জন্য অচেনা কারও সঙ্গে হঠাৎ কথোপকথন শুরু করা প্রায় অসম্ভব। সেই শহরেই বেড়ে ওঠা টম হল্যান্ডের কাছে স্পাইডার-ম্যান হিসেবে পরিচিতি পাওয়ার পর মানুষের এভাবে কাছে আসা মেনে নেওয়া ছিল বিশাল এক চ্যালেঞ্জ। তিনি বলেন, লন্ডনের রাস্তায় কেউ যদি সময় জিজ্ঞেস করে, তবু মনে মনে সন্দেহ জাগে—‘ও আমার সঙ্গে কেন কথা বলছে!’ এই অসামাজিক পরিবেশে বড় হওয়ার কারণে হঠাৎ বিখ্যাত হয়ে যাওয়া এবং রাস্তায় মানুষ ছবি তুলতে ছুটে আসা মেনে নিতে তাঁর অনেক সময় লেগেছে।

তবে খ্যাতির চাপ সামলানোর কৌশল হিসেবে তিনি সার্ফারদের একটি উপমা প্রায়ই মনে আনেন। বড় ঢেউয়ের মুখে শরীর শক্ত করে ফেললে যেমন বিপদ, তেমনি জনপরিসরে লোকজন ছবি তুলতে এলে তা এড়ানোর চেষ্টা করলে দিনটা খারাপ যায়। অন্যদিকে, এটাকে কাজের অংশ ভেবে নিলে এবং ছবি তুলতে ভালো লাগলে দিনটাও দারুণ কাটে। হল্যান্ডের মতে, এই মানসিকতা রপ্ত করাই খ্যাতি টিকিয়ে রাখার মূল চাবিকাঠি।

ক্যারিয়ারের শুরুর দিকের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘স্পাইডার-ম্যান’ই ছিল জীবনের বড় টার্নিং পয়েন্ট। তবে এর আগে প্রায় ১০ বছর কাজ করার সুযোগ পান তিনি, যা তাঁকে ধীরে ধীরে বড় হতে সাহায্য করেছে। পরিবারের সমর্থন, বিশেষ করে বাবার ভূমিকা তিনি কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন। বাবা একজন স্ট্যান্ড-আপ কমেডিয়ান ছিলেন, যিনি প্রতিদিন মঞ্চের চাপ সামলেছেন। ছোটবেলায় কোনো শোতে খারাপ পারফর্ম করলেও পরের দিন তাঁর মুখে সেই হতাশার ছাপ থাকত না। বাবার এই গুণ রপ্ত করার চেষ্টা করেছেন হল্যান্ড, বিশেষ করে যখন কোনো অডিশনে ব্যর্থ হতেন।

মজার ঘটনা হলো, সম্প্রতি তিনি তাঁর প্রাইমারি স্কুলের ইয়ারবুক খুঁজে পেয়েছেন। সেখানে ‘বড় হয়ে কী হতে চাও?’ প্রশ্নের উত্তরে তিনি লিখে রেখেছিলেন—অভিনেতা! অথচ তাঁর সচেতন মনে কখনোই অভিনেতা হওয়ার ইচ্ছা ছিল না। শুধু নাচতে, মঞ্চে থাকতে ভালো লাগত। রয়্যাল ব্যালের একটি শো থেকে শুরু করে ‘বিলি এলিয়ট’ অডিশন—সবই যেন অবচেতনের টানে ঘটে গেছে।

মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে হল্যান্ড স্পষ্টভাষী। তিনি বলেন, ‘আমি জানি, সোফায় বসে চার ঘণ্টা স্ক্রল করে কাটিয়ে দিতে পারি। তাই এখন আমার ফোনে ইনস্টাগ্রাম অ্যাপ নেই।’ তিনি মনে করেন, মনটাকে রক্ষা করা সবচেয়ে জরুরি। ‘যতক্ষণ না তুমি ভেঙে পড়ছ, ততক্ষণ কাজ করে যাও’—এমন উপদেশ তিনি বোকামি বলে মনে করেন। তাঁর মতে, ভেঙে পড়ার পর আবার সুস্থ হওয়ার পথ অনেক দীর্ঘ, তাই মাঝে বিরতি নিয়ে নিজেকে গুছিয়ে নেওয়াই ভালো।

পিতার কাছ থেকে শেখা আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা তিনি উল্লেখ করেন। লি ইভান্স নামে এক কমেডিয়ানের গল্প বলেছিলেন তাঁর বাবা। লি মঞ্চে উঠলেই ভীষণ ঘামতেন, কিন্তু দর্শক সংখ্যা মাত্র ২০০ হলেও চোখে ড্রপ দিয়ে চকচকে চোখ নিয়ে পারফর্ম করতেন। বাবা এই ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়েছিলেন—সামনে এক লাখ মানুষ থাকুক বা পাঁচজন, নিজের সর্বোচ্চ চেষ্টা করাই সর্বনিম্ন শর্ত। এই দর্শনই হল্যান্ডকে সব সময় শতভাগ দেওয়ার প্রেরণা জোগায়।