যুক্তরাজ্যের ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির নবনির্বাচিত নেতা অ্যান্ডি বার্নহাম নতুন প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের পর ‘আই হ্যাভ আ প্ল্যান’ বাক্যটির মাধ্যমে দেশটির নতুন রাজনৈতিক যাত্রা শুরু করেছেন। এই চারটি শব্দ শুনে এক লেখকের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া— শব্দগুচ্ছ তার কাছে খুবই পরিচিত মনে হয়েছে। শুধু তাই নয়, এই বক্তব্যের সূত্র ধরে তিনি নিজের জীবনদর্শনের সঙ্গে রাষ্ট্রনেতার একটি ব্যঙ্গাত্মক মিল খুঁজে পেয়েছেন।
লেখকের বক্তব্য অনুযায়ী, ‘আই হ্যাভ আ প্ল্যান’— এই দাবিটিই তিনি সারাজীবন গলা ফুলিয়ে করে এসেছেন এবং প্রতিটি ক্ষেত্রে বিপদে পড়েছেন। শৈশবের ক্রিকেট ম্যাচে ওপেনিংয়ে নেমে ব্যাটে বল না লাগতে পারার ব্যর্থতা ঢাকতেও তিনি বন্ধুদের গম্ভীর স্বরে বলতেন, ইচ্ছা করেই এমন করছি; তার একটি পরিকল্পনা আছে। কিন্তু তার কোনো পরিকল্পনা ফলপ্রসূ হয়নি। ধারাবাহিক ব্যর্থতায় একসময় দল থেকেই তাকে বাদ দিয়ে দেওয়া হয়।
কলেজজীবনে প্রেম এসে পড়ায় পাত্রীর কাছে নিজের ভবিষ্যতের দায়ভার নেওয়ার অঙ্গীকার করতে গিয়েও একই সংলাপের আশ্রয় নিতেন তিনি। প্রতিষ্ঠার অনিশ্চয়তা আর পদার্থবিজ্ঞানে পাশ করা নিয়ে দুশ্চিন্তার মধ্যেও প্রেমিকাকে বলতেন, ‘আই হ্যাভ আ প্ল্যান’। তবে বাস্তবচিত্র ছিল ভিন্ন; পরিকল্পনা করতে করতেই দেখেন প্রেমিকা অনার্সের মধ্য পড়ায় বিয়ে করে ফেলেছেন। বিষয়টিকে তিনি ব্যাখ্যা করেন এভাবে যে, তার পরিকল্পনার চেয়ে মেয়েটির পরিকল্পনা ছিল অধিক কার্যকর।
চাকুরিহীন জীবনে পড়ে হিমু হওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেও খালি পায়ে হাঁটার পরিণামের কথা ভেবে জুতো-পরা হিমু হয়ে যান। এই জীবনযাপনে বাবা-মায়ের তেমন বাধা ছিল না, সম্ভবতঃ সন্তানের সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে তাদের ধারণা স্পষ্ট ছিল। কিন্তু একমাত্র প্রতিবাদ ছিল শীতের মধ্যে গোসল বন্ধ করা নিয়ে। টানা দশদিন গোসল না করার ফলে একদিন মা রাগত স্বরে গোসলের আদেশ দিলে, তিনি তার চিরায়ত জবাব দেন, শীঘ্রই করবেন। মা করণ জানতে চাইলে স্বভাবসুলভ উত্তর দেন, ‘আই হ্যাভ আ প্ল্যান...’। এই অবস্থায় লেখককে ঘরছাড়া করতে হয়। বিদায়ের পথে বুড়ো বয়সে পিতামাতার দেখভালের প্রশ্ন তোলা হলে মায়ের দরজা বন্ধ করে দেওয়ার আগে শেষ জবাব ছিল— ‘আই হ্যাভ আ প্ল্যান!’
লেখক পরিশেষে বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর প্রতি শুভকামনা ব্যক্ত করেছেন।




