শিক্ষা মন্ত্রণালয় বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের বদলি ও পদায়নে আমূল পরিবর্তন এনেছে। আগে বদলির পুরো দায়িত্ব ছিল মন্ত্রণালয়ের একার হাতে। এখন সেটি বিকেন্দ্রীকরণ করে তিনটি কমিটির মাধ্যমে পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন এই নীতিমালা গত রোববার চূড়ান্ত করা হয়, যা মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আব্দুল খালেক নিশ্চিত করেছেন।

কমিটিগুলোর গঠন ও দায়িত্ব নির্ধারণ করা হয়েছে পদমর্যাদা অনুযায়ী। সরকারি কলেজের প্রভাষক ও সহকারী অধ্যাপকদের বদলির দায়িত্ব পেয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) আঞ্চলিক কার্যালয়ের পরিচালকের নেতৃত্বাধীন একটি চার সদস্যের কমিটি। এই কমিটিতে থাকবেন সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক, জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা) এবং সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের সহকারী পরিচালক (কলেজ) সদস্যসচিব হিসেবে। প্রভাষক ও সহকারী অধ্যাপকরা দপ্তর ও সংস্থার পদ বাদে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের জন্য এই কমিটির কাছে বদলি আবেদন করবেন।

সহযোগী অধ্যাপকদের বদলির জন্য গঠিত হয়েছে মাউশির মহাপরিচালকের নেতৃত্বাধীন আরেকটি কমিটি। এতে সদস্য হিসেবে থাকবেন ঢাকা শিক্ষাবোর্ডের কলেজ পরিদর্শক, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপসচিব (কলেজ ২/১) এবং মাউশির সহকারী (কলেজ) সদস্যসচিব। ঢাকা মহানগর, দপ্তর ও সংস্থার পদ ছাড়া সহযোগী অধ্যাপকদের বদলির আবেদন এই কমিটি যাচাই করে আদেশ জারি করবে।

সবচেয়ে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের জন্য আলাদা কমিটি গঠন করা হয়েছে। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিবের নেতৃত্বাধীন এই কমিটি সহযোগী অধ্যাপক, অধ্যাপক, অধিদপ্তর, দপ্তর ও সংস্থার সব পদ এবং কলেজের অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষদের বদলি ও পদায়নের দায়িত্ব পালন করবে। কমিটির সদস্য হিসেবে থাকবেন অতিরিক্ত সচিব (কলেজ), যুগ্ম সচিব (কলেজ-১) এবং উপসচিব (কলেজ-১/২) সদস্য সচিব।

বদলির জন্য কিছু শর্ত মানতে হবে। নতুন প্রভাষকরা চাকরির দুই বছর পূর্ণ না হলে বদলির আবেদন করতে পারবেন না। অন্যান্য শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রেও একই কর্মস্থলে দুই বছর পূর্ণ হওয়া বাধ্যতামূলক। তবে গুরুতর শারীরিক, মানসিক বা পারিবারিক কারণে ব্যতিক্রমের সুযোগ রয়েছে। সেক্ষেত্রে সরকারের এখতিয়ারে আবেদন বিবেচনা করা হবে। স্বামী-স্ত্রী উভয় চাকরিজীবী হলে একজনের কর্মস্থলের নিকটবর্তী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বদলির আবেদন করা যাবে। অবসর প্রস্তুতিমূলক ছুটিতে যাওয়ার এক বছর আগে কোনো কর্মকর্তা সুবিধামতো স্থানে বদলির আবেদন করলে পদ শূন্য থাকা সাপেক্ষে অগ্রাধিকার পাবেন।

বদলির আবেদন মূল্যায়নে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সমস্যা, পেশাগত সমস্যা, আবেদনকারী বা পরিবারের সদস্যদের দুরারোগ্য অসুস্থতা, নিজ জেলা থেকে কর্মস্থলের দূরত্ব ইত্যাদি বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হবে। উপজেলা বা প্রত্যন্ত এলাকার কলেজে শূন্য পদে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পদায়ন করা হবে। বর্তমানে বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারে প্রায় ১৬ হাজার কর্মকর্তা কর্মরত। নতুন এই নীতিমালার ফলে তাদের আর বদলির জন্য সরাসরি মন্ত্রণালয়ে যেতে হবে না, যা হয়রানি কমাবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে স্বচ্ছ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।