বিশ্বের সিনেমাপ্রেমীদের কাছে মার্ভেলের ‘ওয়েব-স্লিঙ্গার’ স্পাইডার-ম্যানের আকাশছোঁয়া জনপ্রিয়তার পাশাপাশি বক্স অফিসেও ফ্র্যাঞ্চাইজিটি যেন একেকটি সোনার খনি— এই ধারণা আবারও দৃঢ় হয়েছে টম হল্যান্ড অভিনীত সর্বশেষ সিক্যুয়েলটির সাফল্যে। চলতি শতাব্দীতে এখন পর্যন্ত মুক্তি পাওয়া ফ্র্যাঞ্চাইজির ১১টি কিস্তির প্রতিটির আয় বিশ্লেষণ করলেই বোঝা যায়, এটি একটি ধারাবাহিক বাণিজ্যিক জাদুর নাম। মার্ভেল স্টুডিওস ও সনি পিকচার্সের যৌথ এই উদ্যোগ সবসময়ই আয়ের নতুন মানদণ্ড সৃষ্টি করে এসেছে।
২০২৬ সালে মুক্তি পেয়ে ‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’ অল্প দিনের ব্যবধানেই বিশ্বব্যাপী ১ বিলিয়ন ডলার আয়ের গণ্ডি পেরিয়ে যায়। উত্তর আমেরিকার বক্স অফিসে উদ্বোধনী সপ্তাহে ৩৬০ মিলিয়ন ডলার তুলে এটি ‘অ্যাভেঞ্জার্স: এন্ডগেম’-এর রেকর্ড ছাপিয়ে ইতিহাসের সর্ববৃহৎ ঘরোয়া উদ্বোধনের রেকর্ড গড়ে। ছবিটির মোট আয় ইতোমধ্যে ১.১৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে।
এর আগে ২০২৩ সালে ‘স্পাইডার-ম্যান: অ্যাক্রস দ্য স্পাইডার-ভার্স’ মাইলস মোরেলেসের মাল্টিভার্স অভিযানের মাধ্যম অ্যানিমেশনের ধরন বদলে দেয়। নজরকাড়া কমিক-বুক ভিজ্যুয়াল ও ক্লিফহ্যাঙ্গার গল্পের দরুণ এটি বিশ্বব্যাপী ৬৯০.৯ মিলিয়ন ডলার আয় করেছিল।
মহামারি-পরবর্তী প্রেক্ষাগৃহে দর্শক টানতে বিশাল ভূমিকা রাখে টম হল্যান্ডের তৃতীয় একক সিনেমা ‘স্পাইডার-ম্যান: নো ওয়ে হোম’। টোবি ম্যাগুয়ার ও অ্যান্ড্রু গারফিল্ডের স্মৃতিচারণমূলক উপস্থিতি এই ছবিকে সোনে পিকচার্সের ইতিহাসের সর্বাধিক উপার্জনকারী কিনেমা হিসেবে ১.৯২ বিলিয়ন ডলারের অসামান্য মাইলফলকে পৌঁছে দেয়। ২০১৯ সালের ‘স্পাইডার-ম্যান: ফার ফ্রম হোম’ও পিছিয়ে নেই, যার বৈশ্বিক আয় ছিল ১.১৩ বিলিয়ন ডলার।
টম হল্যান্ডের ধারাবাহিকের বাইরে অতীতের সিক্যুয়েলগুলোর বাণিজ্যিক অবস্থানও ছিল বেশ দৃঢ়। ২০১৮ সালের অ্যানিমেটেড সৃষ্টি ‘স্পাইডার-ম্যান: ইনটু দ্য স্পাইডার-ভার্স’ সুপারহিরো ঘরানার সংজ্ঞা বদলে দিয়ে অস্কার জয়ের পাশাপাশি বক্স অফিসে ৩৯৪.৭ মিলিয়ন ডলার আয় করে। মার্ভেল সিনেম্যাটিক ইউনিভার্সে টম হল্যান্ডের একক সফরের সূচনা হয় ২০১৭-এর ‘স্পাইডার-ম্যান: হোমকামিং’-এর মধ্য দিয়ে। আয়রন ম্যানের তত্ত্বাবধানে থাকা পিটার পার্কারের হাইস্কুল জীবনের চমৎকার চিত্রণ বিশ্বজুড়ে ৮৮০.২ মিলিয়ন ডলার উপার্জন করে।
অ্যান্ড্রু গারফিল্ড অভিনীত ‘দ্য অ্যামেজিং স্পাইডার-ম্যান ২’ (২০১৪) দারুণ ভিজুয়াল ও ভাবাবেগপূর্ণ সমাপ্তির কারণে বিশ্ববাজারে প্রায় ৭০৯ মিলিয়ন ডলার তোলে। এর আগের রিবুট সিনেমা ‘দ্য অ্যামেজিং স্পাইডার-ম্যান’ (২০১২) পিটার পার্কারের নিখোঁজ মা-বাবা ও লিজার্ডের সঙ্গে লড়াইকে ভিত্তি করে ৭৫৮ মিলিয়ন ডলার আয় করে।
টোবি ম্যাগুয়ারের ট্রিলজির শেষ কিস্তি ‘স্পাইডার-ম্যান ৩’ (২০০৭) ব্ল্যাক স্যুট ও একাধিক ভিলেন থাকা সত্ত্বেও বিশ্বজুড়ে রেকর্ড ৮৯৪.৯ মিলিয়ন ডলার আয় করেছিল, যা তখনকার সময়ে অনন্য ছিল। আর ‘স্পাইডার-ম্যান ২’ (২০০৪) ডক ওকের সঙ্গে লড়াই এবং ট্রেনের প্রতীকী অ্যাকশন দৃশ্যের সৌজন্যে ৭৯৫.৯ মিলিয়ন ডলার তুলতে সক্ষম হয়।
আধুনিক সুপারহিরো চলচ্চিত্রের ভিত গড়ে দেওয়া ২০০২ সালের প্রথম ‘স্পাইডার-ম্যান’ই শুরুতে ৮২৫.৮ মিলিয়ন ডলার আয় করে এক নতুন ইতিহাসের সূচনা করেছিল। একে একে এই স্পাইডার-ম্যান সিরিজ যেন জাদুদণ্ডের ছোঁয়ায় বক্স অফিস থেকে মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার এনে দিতে থামেনি।



