যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানে সামরিক অভিযান শুরু করলে ইরানের নির্বাচিত রাজপুত্র রেজা পাহলভির জন্য একটি সুযোগের দ্বার উন্মোচিত হয়েছিল। ১৯৭৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত স্বৈরশাসক শাহের পুত্র পাহলভি গত পঞ্চাশ বছরে নিজ দেশে পা রাখেননি। এরপরেও তিনি ইউরোপ ও আমেরিকায় ইরানের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের প্রতিশ্রুতি দিয়ে জোরদার প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন, অর্থ সংগ্রহ করছেন এবং বিভিন্ন দেশের প্রভাবশালী কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠক করছেন।
আগ্রাসন শুরুর পরপরই সামাজিক মাধ্যমে তিনি দাবি করেন, বর্তমান সরকারের পতন ঘটলে অন্তর্বর্তীকালীন নেতৃত্ব প্রদানের দায়িত্ব নেওয়ার জন্য ইরানের জনগণ তাকে আহ্বান জানিয়েছে এবং তিনি সে আহ্বান গ্রহণ করেছেন। চলতি বছরের মার্চে টেক্সাসে অনুষ্ঠিত ‘কনজারভেটিভ পলিটিক্যাল অ্যাকশন কনফারেন্স’-এ পাহলভি ব্যাপক সমাদর লাভ করেন। সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুগত সমর্থক ও অসংখ্য ইরানি-আমেরিকান তাকে দীর্ঘ ৪৫ সেকেন্ড দাঁড়িয়ে করতালি দিয়ে অভ্যর্থনা জানান। অনেকে পাহলভি্র বাবার আমলের পুরোনো পতাকা গায়ে জড়িয়ে ছিলেন।
কিন্তু ওই সম্মেলনের মাত্র চার দিনের মাথায় ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজের সামাজিক মাধ্যমের পাতায় একটি পোস্টে লেখেন, 'আমরা ইরানকে গুঁড়িয়ে দেব কিংবা তাদের প্রস্তর যুগে ফিরিয়ে নিয়ে যাব।' ট্রাম্পের এই উত্তেজনামূলক বক্তব্য অনেক প্রবাসী ইরানিকে ভয় ও ক্ষোভে ফেলে দেয়। পাহলভির নির্বাচনী তহবিলে ৩০ লাখ ডলারের অধিক অর্থ দান করা বেশ কয়েকজন ইরানি-আমেরিকান সমর্থক এই মন্তব্যে অত্যন্ত বিরক্ত হন। তাদের একজন জানিয়েছেন, পাহলভি যেন ইরানের নতুন অন্তর্বতী সরকার পরিচালনা করবেন—এমনই প্রত্যাশা নিয়েই তারা এই বড় অংকের অর্থ দিয়েছিলেন। কিন্তু নির্বাচিত এই রাজপুত্র ট্রাম্পের ভয়াবহ মন্তব্যের তৎক্ষণাৎ কোনো প্রতিবাদ করায় তার নীরবতা দাতাদের গভীরভাবে হতাশ করেছে। ফলে মনে করা হচ্ছে, নিজ দেশের মানুষের সার্বভৌমত্ব ও মর্যাদার সুরক্ষার চেয়ে পাহলভি বিদেশি সামরিক হস্তক্ষেপেরই বেশি পথপাতি।
বিশ্লেষক ও বিনিয়োগকারীদের মতে, পাহলভির এই চুপ থাকার রাজনীতিটি তার রাজনৈতিক অভিযাত্রার গতি পুরোপুরি বদলে দিয়েছে। এটি শুধু প্রবাসী ইরানিদের মধ্যকার গভীর বিভেদই প্রকট করে তোলেনি, পাশাপাশি তার রাজনৈতিক স্বপ্নকেও এক চরম অনিশ্চয়তায় ফেলে দিয়েছে। পাহলভির প্রভাবশালী মার্কিন বন্ধুদের, বিশেষ করে দক্ষিণপন্থী রিপাবলিকানদের সমর্থন হারানোর আতঙ্ককেই তার এ নীরবতার কারণ বলে মনে করছেন সমালোচকেরা। তার বাবার একনায়কতান্ত্রিক শাসন এবং কুখ্যাত গুপ্ত পুলিশ 'সাভাক' এর মাধ্যমে ভিন্নমত দমনের ইতিহাসই পাহলভির গ্রহণযোগ্যতার পথে সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা।




