ইরানের রাষ্ট্রক্ষমতার অভ্যন্তরীণ গঠন ও বিভিন্ন অংশের মধ্যে সমন্বয়হীনতা যুক্তরাষ্ট্রের সাথে যে কোনো যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাস্তবায়নকে জটিল করে তুলছে। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, দেশটির সর্বোচ্চ নেতা থেকে শুরু করে শক্তিশালী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী পর্যন্ত, প্রতিটি শক্তিকেন্দ্রের ভিন্ন ভিন্ন অগ্রাধিকার ও নীতি বিদ্যমান, যা একক কোনো পররাষ্ট্রনীতির পথে বাধা সৃষ্টি করছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় নির্বাচিত সরকার ও অ-নির্বাচিত ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ক্ষমতার একাধিক স্তর দেখা যায়। এই কাঠামোয় পরমাণু কর্মসূচি থেকে শুরু করে আঞ্চলিক প্রক্সি বাহিনী পরিচালনা পর্যন্ত বিভিন্ন ইস্যুতে প্রায়শই ভিন্ন ভিন্ন কণ্ঠস্বর ও সিদ্ধান্ত বাইরে আসে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য আলোচনা বা যুদ্ধবিরতি পরিস্থিতিতেও এই সমান্তরাল শক্তির দ্বন্দ্ব সুস্পষ্ট হয়ে ওঠে।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলী খামেনেয়ীর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা থাকলেও, কার্যক্ষম ওয়েপেন নীতি বাস্তবায়নে বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর ভূমিকা অপরিসীম। তাদের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রভাব এতটাই বিস্তৃত যে, সংঘাত বন্ধের বিষয়ে তাদের সম্মতি ছাড়া কোনো প্রক্রিয়া স্থায়ী হওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।

বিশ্লেষকরা আরও ইঙ্গিত দিচ্ছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি কেবল একটি সামরিক চুক্তি নয়, বরং এটি তেহরানের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার ভারসাম্যকে নাড়া দিতে পারে। ফলে, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও তা বাস্তবায়নের পথে অনেক লুকানো বাধা থাকতে পারে, যা সংঘাত অবসানের প্রচেষ্টাকে বারবার ব্যর্থ করে দিতে পারে। তাই কূটনৈতিক সমাধানের আগে ইরানের এই জটিল শক্তি কেন্দ্রগুলোর মধ্যে সমন্বয় সাধন একটি পূর্বশর্ত হিসেবে দেখা দিয়েছে।