সিরাজগঞ্জ জেলার কামারখন্দ উপজেলায় অবস্থিত রসুলপুর আদর্শ উচ্চবিদ্যালয়ে গতকাল রোববার সকাল দশটার দিকে এক অভূতপূর্ব ঘটনা ঘটে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রাশিদুল হাসানের পদত্যাগ দাবি করে শিক্ষার্থীরা তাঁর কার্যালয়সহ আরও একটি কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেয়। তাদের অভিযোগ, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত দশম শ্রেণির প্রাক্-নির্বাচনী পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে একাধিক বিষয়ে ছাপার ভুল ছিল। শিক্ষার্থীদের দাবি, অন্য একটি প্রতিষ্ঠানের গত বছরের প্রশ্নপত্র অনুসরণ করে পরীক্ষা নেওয়া হয় এবং সিলেবাসের বাইরের প্রশ্নও রাখা হয়। এর জেরে কয়েকদিন ধরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়।

শিক্ষার্থীরা আরও অভিযোগ করে যে, প্রধান শিক্ষক নিয়মিত বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে আসেন না, বিশেষ করে পদার্থবিজ্ঞান ও জীববিজ্ঞানের ক্লাসে তাঁর উপস্থিতি ছিল অনিয়মিত। পাশাপাশি পরীক্ষার খাতা যথাযথভাবে মূল্যায়ন না করেই নম্বর দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। একজন শিক্ষার্থী জানান, ৫০ নম্বরের উত্তর লিখলেও খাতা না দেখেই ৮০ নম্বর দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। স্থানীয় বাসিন্দাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিদ্যালয়ে ফ্যান, লাইট, টিউবওয়েলসহ বিভিন্ন জিনিস চুরি হলেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এমনকি বিদ্যালয়ের বারান্দায় মাদক সেবন ও অসামাজিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ থাকলেও প্রশাসনিক উদ্যোগ দেখা যায়নি বলে তারা জানান।

একজন অভিভাবক অভিযোগ করেন, প্রধান শিক্ষকের অনিয়মিত উপস্থিতির কারণে বিদ্যালয়ের পরিবেশ ও সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি বিষয়টির দ্রুত সমাধান কামনা করেন। অন্যদিকে, প্রধান শিক্ষক রাশিদুল হাসান দাবি করেন, হাজিরা খাতা দেখলেই বোঝা যাবে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির অবস্থা। তিনি বলেন, প্রাক্-নির্বাচনী পরীক্ষা একযোগে নেওয়া হয় এবং পদার্থবিজ্ঞান ও কৃষি পরীক্ষার প্রশ্নে ছাপার ভুল ছিল। টিফিনের পর বেশির ভাগ শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে থাকে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন। অফিসিয়াল কাজেও তাকে ব্যস্ত থাকতে হয় বলে জানান তিনি।

ঘটনার খবর পেয়ে বেলা দেড়টার দিকে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) হাসিবুল আলম মির্জা বিদ্যালয়ে আসেন। তিনি স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় তালা খুলে দেন এবং শিক্ষার্থীদের অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের ঘোষণা দেন। হাসিবুল আলম মির্জা বলেন, শিক্ষার্থীদের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত চলছে এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে তিনি স্পষ্ট করেন, প্রধান শিক্ষকের কক্ষ ও শ্রেণিকক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার ঘটনাটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।