রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) ভবনে হামলার ঘটনায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার মামলার আবেদন করেছেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক সালাহউদ্দিন আম্মার। অজ্ঞাতপরিচয় আরও সাত থেকে আটজনকে আসামি করা হয়েছে এই মামলায়। গত ১০ আগস্ট রাজশাহীর চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এই নালিশি মামলার আবেদন করা হয়। তবে বিষয়টি জানাজানি হয়েছে আজ মঙ্গলবার।
বাদীপক্ষের আইনজীবী মোহা. সালাহউদ্দিন আজ বিকেলে জানান, আদালত মামলাটি তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) দায়িত্ব দিয়েছেন। তদন্ত শেষে মামলাটি গ্রহণযোগ্য কিনা, সে বিষয়ে আদালতই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।
মামলায় যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে তারা হলেন— ইতিহাস বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের মো. আনাস, সংস্কৃত বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের মাহমুদুল হাসান মাহিন ও মামুন মিয়া, ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের মাহফুজুল ইসলাম ওরফে নয়ন এবং ইসলামি স্টাডিজ বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের আজহারুল ইসলাম।
আবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৭ জুলাই বেলা ২টা ৪৫ মিনিট থেকে ৩টা ১৫ মিনিটের মধ্যে রাকসু ভবনের দ্বিতীয় তলায় জিএসের ২০২ নম্বর কক্ষে এই হামলার ঘটনা ঘটে। দেশীয় অস্ত্রসহ ওই কক্ষে জোর করে প্রবেশ করেন অভিযুক্তরা। সালাহউদ্দিন আম্মারকে গালিগালাজ ও দুর্ব্যবহার করা হয়। প্রতিবাদ করতে গেলে তাকে কিল-ঘুষি মেরে আহত করা হয়। একই সময়ে অফিসের চেয়ার-টেবিলসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয়, যাতে প্রায় এক লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, একপর্যায়ে আনাস তার হাতে থাকা রড দিয়ে রাকসুর তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক নাজমুস সাকিবকে হত্যার উদ্দেশ্যে আঘাত করেন। আঘাত ঠেকাতে গিয়ে তার ডান হাতে রক্তাক্ত জখম হয়। নাজমুস সাকিবকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে মাহিন মেহেদীকে বাঁ কানে লাঠি দিয়ে আঘাত করেন মাহফুজুল ইসলাম নয়ন। এতে তিনিও আহত হন।
এ বিষয়ে রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি সভায় ছিলেন বলে জানানো হয়। পরে তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, “আমার সম্পাদকের ওপর হামলা হয়েছে। এটা আমার কাছে মনে হচ্ছে জাস্ট ফর কনসার্ন, আর কিছুই না। এটা নিয়ে পরে একটা গেম খেলবে সরকার। এ জন্য আমার সম্পাদকদের ইনভলভ করে একটা মামলা করছি। এটা শুধু কনসার্ন করে রাখা। এ ছাড়া আর কিছু না।”
এর আগে গত ২৭ জুলাই ছাত্রলীগের কর্মী বলে অভিযোগ তুলে মো. আনাসকে প্রক্টর দপ্তরে সালাহউদ্দিন আম্মার মারধর করেন বলে অভিযোগ ওঠে। ওই ঘটনার পর আনাসসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী রাকসু ভবনে হামলা করেন বলে অভিযোগ করেন রাকসুর নেতারা। ওই দিন বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে ঢুকে মাহমুদুল হাসান মাহিন, আবুল হাসান ও আনাসকে দফায় দফায় মারধর করেন রাকসু ও শিবিরের নেতারা। মারধরের শিকার মো. আনাস ও আবুল হাসানকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শাহ মখদুম থানার পুলিশ সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি পুরোনো মামলায় গ্রেপ্তার করে। পরদিন তাদের আদালতে হাজির করা হলে কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর গত ৩০ জুলাই সালাহউদ্দিন আম্মারসহ রাকসু ও শিবিরের ৯ নেতার বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা মামলার আবেদন করেন মারধরের শিকার মাহমুদুল হাসানের বাবা।




