জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের (জামুকা) পক্ষ থেকে সংসদীয় স্থায়ী কমিটিকে জানানো হয়েছে যে, বীরাঙ্গনা হিসেবে অন্তর্ভুক্তির জন্য মোট ২২২টি আবেদন বর্তমানে অপেক্ষমাণ অবস্থায় রয়েছে। অন্যদিকে, মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকাভুক্ত হওয়ার জন্য ৬১৫টি আবেদন এখনো শুনানির জন্য ঝুলে আছে। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বিকেলে সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠকে এই পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের এই কমিটির সভাপতিত্ব করেন মো. মনিরুল হক চৌধুরী। বৈঠকের শুরুতে পরিচিতি পর্ব শেষে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থান অধিদপ্তরের বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পর্কে কমিটিকে অবহিত করা হয়। সংসদ সচিবালয় থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। সূত্র অনুযায়ী, বৈঠকে জামুকার পক্ষ থেকে আরও জানানো হয় যে, ২০১০ সাল থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত মোট ৬ হাজার ৪৬৫ জন অমুক্তিযোদ্ধার গেজেট বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে জামুকার মোট ১০৩টি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা প্রণয়ন এবং প্রকাশিত গেজেট যাচাই-বাছাইয়ের যে কাজগুলো এখনো অসম্পূর্ণ রয়েছে, সেগুলোর একটি বিস্তারিত তালিকাও উপস্থাপন করা হয়। এসব অনিষ্পন্ন কাজের মধ্যে রয়েছে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকাভুক্তির ৬১৫টি আবেদন, যা শুনানির জন্য অপেক্ষমাণ। একইভাবে বীরাঙ্গনা হিসেবে অন্তর্ভুক্তির জন্য ২২২টি আবেদনও অপেক্ষমাণ। জুলাই অভ্যুত্থানের পরবর্তী সময়ে গঠিত উপকমিটি যাচাই-বাছাই করে ১০৪ জন মুক্তিযোদ্ধার নাম সুপারিশ করেছে, যাদের নাম এখনো গেজেটে প্রকাশের অপেক্ষায় আছে। এছাড়া, যারা ইতোমধ্যে ভাতা পাচ্ছেন, তাদের বিরুদ্ধে ২০২টি অভিযোগ শুনানির জন্য জমা রয়েছে। কমিটির সভাপতির পাশাপাশি বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আহমেদ আযম খান, প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন এবং সংসদ সদস্য ফজলুর রহমান, মো. আবদুল হান্নান, আমীর এজাজ খান ও রোকেয়া বেগম। অপরদিকে, একই দিন বিকেলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠকও সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত হয়। এই বৈঠকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং এর অধীনস্থ বিভিন্ন সংস্থার প্রধানদের সঙ্গে পরিচিতি ও মতবিনিময় করা হয়। সংসদ সচিবালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৈঠকে মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর বর্তমান কার্যক্রম সম্পর্কে কমিটিকে অবহিত করা হয়। এ সময় বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। কমিশন প্রতিষ্ঠার পর বিগত ১০ বছরে এর প্রাতিষ্ঠানিক ব্যয়, আদায় করা জরিমানার পরিমাণ এবং মামলা নিষ্পত্তির অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য আগামী বৈঠকে উপস্থাপনের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) ক্ষেত্রে সরকারি ভর্তুকি কমানো, ডিলার নিয়োগ পদ্ধতি এবং সংশ্লিষ্ট নীতিমালা নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। কমিটির সভাপতি মো. খালেদ হোসেন মাহবুবের সভাপতিত্বে এই বৈঠকে অংশ নেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির, বরকতউল্লা বুলু, আবুল হোসেন খান, মো. আবুল কালাম, হেলেন জেরিন খান, সৈয়দ জয়নুল আবেদীন, গাজী এনামুল হক ও আব্দুল মুনতাকিম।
বীরাঙ্গনা ও মুক্তিযোদ্ধা অন্তর্ভুক্তির দীর্ঘ অপেক্ষা, সংসদীয় কমিটিতে তথ্য উপস্থাপন
জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের (জামুকা) পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বীরাঙ্গনা হিসেবে অন্তর্ভুক্তির জন্য ২২২টি এবং মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকাভুক্তির জন্য ৬১৫টি আবেদন শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। এছাড়া জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে যাচাই-বাছাই করা ১০৪ জন মুক্তিযোদ্ধার নাম গেজেটভুক্তির অপেক্ষায় আছে।




