চট্টগ্রামের বহুল আলোচিত সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন ওরফে মোবারক হোসেন ইমন দেশ ছেড়ে ভারতে পালানোর চেষ্টা করছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মাসুদ আলম জানান, এই পরিকল্পনার পেছনে অন্য এক কুখ্যাত সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদের পরামর্শ ছিল। ইমনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করার কথাও জানান তিনি।
পুলিশ সুপার মাসুদ আলমের বরাতে জানা যায়, দেশে ধরা পড়ার আশঙ্কায় বড় সাজ্জাদের পরামর্শেই ভারতে পালানোর পথ বেছে নিয়েছিলেন ইমন। সকাল ৬টায় তার যশোরের ঝিকরগাছা পৌঁছানোর কথা ছিল। সীমান্ত পার করানো এবং ভারতে কে তাকে গ্রহণ করবে—সবকিছুই আগে থেকে ঠিক করা ছিল। গ্রেপ্তারের সময় ইমনের কাছ থেকে একটি ভারতীয় আধার কার্ডও উদ্ধার করা হয়েছে। ওই কার্ডে নাম লেখা ছিল আজহার খান, জন্ম তারিখ উল্লেখ ছিল ১২ মে, ১৯৯৮।
বুধবার ভোরে নড়াইল-যশোর সড়কের ঝুমঝুম এলাকায় একটি গাড়ি থেকে তিন সহযোগীসহ ইমনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পুলিশ সুপার জানান, ইমন পালানোর জন্য চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা গিয়ে গাড়ি ও চালক পাল্টে ফেলেছিল। তবে কয়েকদিনের নজরদারির ফলেই তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার বলেন, ইমনকে গ্রেপ্তারের পেছনে দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা ছিল। গত ১৩ জুন রাউজানে যুবদল নেতা মাসুদ হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই পুলিশ তাকে ধরার জন্য কাজ শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২২ জুলাই মাসুদ হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি ইলিয়াছকে ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই ইমনের গতিবিধি সম্পর্কে নিশ্চিত হয় পুলিশ।
পুলিশ সুপারের ভাষ্য, ইমন ঢাকা থেকে খুলনার দিকে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিল। সে অনুযায়ী পদ্মাসেতু টোল প্লাজায় মুন্সীগঞ্জ জেলা পুলিশের সহযোগিতায় চেকপোস্ট বসানো হয়। খুলনার রূপসা এলাকায়ও চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়। তবে ইমন গোপালগঞ্জে থেকে খুলনার দিকে না গিয়ে রুট পরিবর্তন করে নড়াইলের দিকে চলে যায়। বিষয়টি যশোরের পুলিশ সুপারকে জানানোর পর সেখানে একটি দল প্রস্তুত করা হয় এবং তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে ঝুমঝুমপুর এলাকা থেকে ইমন ও তার সহযোগীদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারের পর ইমনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার রাতে ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর ইউনিয়নের মানিকপুর গ্রামে একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি দেশীয় এলজি এবং অন্যান্য দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ সুপার জানান, ইমনকে গ্রেপ্তারের খবর প্রচার হওয়ায় অস্ত্র উদ্ধারসহ পরবর্তী অভিযানগুলো পুলিশের জন্য কষ্টকর হয়ে পড়ে।
ইমনের সহযোগী রায়হানকে গ্রেপ্তার করতে বুধবার নোয়াখালীতে অভিযান চালানো হলেও সে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। পুলিশ জানায়, রাউজান এলাকায় হত্যাকাণ্ডসহ বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে জড়িত রায়হান কোম্পানীগঞ্জের একটি বাড়িতে অবস্থান করছিল। পুলিশ ধরার চেষ্টা করলে সে ছাদ থেকে লাফিয়ে পালিয়ে যায়।
২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর চট্টগ্রামে ইমনসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসীর নাম আলোচনায় আসে। এ প্রসঙ্গে পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর তাদের কোনো রাজনৈতিক আশ্রয় ছিল বলে তার মনে হয় না। তিনি বলেন, তারা সম্ভবত তখনকার ভ্যাকুয়ামের সুযোগ নিয়েছিল। ইমন চট্টগ্রামের জোড়া খুনসহ কমপক্ষে ১৮টি মামলার আসামি বলে জানা গেছে।




