বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় নরওয়ের বিপক্ষে হেরে বিদায় নেওয়ার পর ব্রাজিলের ফুটবলপ্রেমী জনগণের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। এই অপ্রত্যাশিত প্রস্থানের ফলে সমালোচনা শুরু হলেও ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশন (সিবিএফ) ইতালীয় কৌশলী কোচ কার্লো আনচেলত্তির ওপর থেকে আস্থা সরিয়ে নেয়নি। তিনি নিজেও এই বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

গত মঙ্গলবার রিও ডি জেনিরোতে পৌঁছে সিবিএফের জাতীয় দল বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন আনচেলত্তি। সেখানে উপস্থিত ছিলেন দলের সমন্বয়ক রদ্রিগো কায়েতানো। এই বৈঠকে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়। আনচেলত্তি স্প্যানিশ ক্রীড়া দৈনিক 'এএস'-কে জানিয়েছেন, পুরোপুরি নতুন করে শুরু হবে না, তবে তরুণ প্রতিভাদের সুযোগ দিয়ে ব্রাজিল দলকে নতুন রূপ দেওয়া হবে। তিনি বলেন, 'একেবারে তরুণদের পরখ করে আমরা একটি নতুন সেলেসাও তৈরির কাজ শুরু করব। তবে এর অর্থ এই নয় যে বর্তমান অভিজ্ঞদের আমরা বাদ দিচ্ছি। যাদের এখনো ব্রাজিলকে দেওয়ার মতো অনেক কিছু আছে, তাদের জন্য জাতীয় দলের দরজা খোলা থাকবে।'

সিবিএফের এই নতুন যাত্রায় নেইমার আর ব্রাজিলের জার্সি পরবেন না—এটি নিশ্চিত হয়ে গেছে। দলের সমন্বয়ক রদ্রিগো কায়েতানো বলেন, 'এটি আমাদের কাজের একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা। সামনে বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব এবং কোপা আমেরিকার মতো বড় টুর্নামেন্ট রয়েছে। প্রতিটি প্রতিযোগিতায় দেশকে সেরাভাবে উপস্থাপন করাই আমাদের লক্ষ্য।'

আগামী সেপ্টেম্বর মাসে ব্রাজিল তিনটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে। নভেম্বরে আরও দুটি ম্যাচের পরিকল্পনা রয়েছে। তারপর আগামী বছরের মাঝামাঝি সময়ে শুরু হবে ২০৩০ বিশ্বকাপের জন্য লাতিন আমেরিকা অঞ্চলের বাছাইপর্ব। ২০২৮ সালে অনুষ্ঠিত হবে কোপা আমেরিকা। এসব প্রতিযোগিতাকে সামনে রেখে ব্রাজিলের জাতীয় দলের ভিত মজবুত করতে বয়সভিত্তিক দলগুলোর সঙ্গে মূল দলের সমন্বয় বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

এছাড়া কলকাতায় একটি প্রীতি ম্যাচ আয়োজনের সম্ভাবনা রয়েছে। এমনকি বাংলাদেশেও খেলার বিষয়ে আলোচনা চলছে বলে জানা গেছে। আনচেলত্তি এবং সিবিএফ কর্মকর্তাদের এই বৈঠক ভবিষ্যতের পথচলার দিকনির্দেশনা দিয়েছে। ব্রাজিল ফুটবলের নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে, যেখানে তরুণদের ওপর জোর দেওয়া হবে, কিন্তু অভিজ্ঞদের সম্পূর্ণ ছেঁটে ফেলা হবে না।